‘ব্যাংক সংস্কার আটকে দিচ্ছে সরকার, অলিগার্ক পরিবারের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা চলছে’

‘ব্যাংক সংস্কার আটকে দিচ্ছে সরকার, অলিগার্ক পরিবারের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা চলছে’
হাসনাত আবদুল্লাহ

ব্যাংক খাতকে নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের ‘জমিদারি’ বানিয়ে রাখার পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

স্ট্যাটাসে বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে অতীতে এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক এবং টানা ছয় বছরের বেশি পদে না থাকার নিয়ম ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে প্রভাবশালী অলিগার্কদের ব্যাংক দখলের সুযোগ দিতে ২০১৮ সালে পরিচালকের মেয়াদ বাড়িয়ে ৯ বছর এবং এক পরিবারের চারজনকে পর্ষদে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সদস্যসংখ্যা তিনজন করা হলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়। সে সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়া ড. আহসান এইচ মনসুর এগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে ছিল—পুনরায় এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক ও সর্বোচ্চ ছয় বছরের মেয়াদ, পর্ষদে অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখা এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের দায়ভার সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ওপর ন্যস্ত করা।

তবে ড. মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আমির খসরু।

বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রস্তাব নাকচ করে দিতে চাইছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর ফলে ব্যাংক পর্ষদে এক পরিবারের তিনজনের পরিচালক থাকার সুযোগ, ৯ বছরের মেয়াদ এবং পরিচালকদের খেলাপি ঋণের দায়মুক্তির পুরোনো নিয়মগুলোই ফিরে আসছে। এমনকি খেলাপি ঋণের কারণে পদ হারানোর পর পুনরায় পর্ষদে ফেরার অপেক্ষার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাসে নামানোর চেষ্টা চলছে।

হাসিনা আমলের অলিগার্কদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বিএনপি সরকার এসে আবার ফিরিয়ে আনছে দাবি করে স্ট্যাটাসের শেষাংশে বলা হয়, মাঝখান থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল। ব্যাংক জনগণের আমানতের টাকায় চলে, এটি কোনো পরিবারের জমিদারি নয়। সংস্কার বাতিল করে বিএনপি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক নতুন অলিগার্কদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন