উমরাহ থেকে দেশে ফিরে এসে শরীরটা ভালো লাগছিল না। কিন্তু তাও নিজেকে জোর করলাম। তারাবির সলাত পড়লাম মসজিদে। শুরু করেছিলাম তিনতলার শেষ কাতারে। বিতর পড়লাম চতুর্থ কাতারে। লোক চলে যাচ্ছিল, আর ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে সামনে এগিয়ে যাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশায় রমজানের রাতে সালাত আদায় করবে, তার আগের সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ৩৭; মুসলিম : ৭৫৯)
এই যে রাতে সালাত আদায় ব্যাপারটা কেমন? রাসুলুল্লাহ (সা.) এক রাতে অর্ধেক রাত সাহাবিদের নিয়ে সালাত পড়েন। সাহাবায়ে কিরাম চাইছিলেন পুরো রাত পড়তে, তখন নবীজি বললেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সালাত আদায় করবে, তার আমলনামায় সারারাত সালাত আদায়ের সাওয়াব লেখা হবে।’ (তিরমিজি : ৮০৬; ইবন মাজা : ১৩৭৫)
ভাইয়েরা, আপনারা জানেন কিয়ামতের দিন ভয়ংকর কঠিন একটা দিন হবে। সুরা মা’আরিজে কিয়ামতের দিনকে ইশারা করে বলা হয়েছে, একটা দিনের দৈর্ঘ্য হবে আমাদের ২৪ ঘণ্টার দিনের হিসাবে ৫০ হাজার বছরের দিনের সমান। আপনারা একটু চিন্তা করতে থাকেন, কোনো একটা লাইনে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে আমাদের কেমন লাগে? এক ঘণ্টা রোদের মধ্যে দাঁড়াতে কেমন লাগে? কিয়ামতের দিন সূর্য একদম মাথার কাছে চলে আসবে। মানুষ গরমে, দুশ্চিন্তায় ঘামতে থাকবে, ঘামে ডুবে যাবে। কিয়ামতের মাঠে বসার সুযোগ থাকবে না-মাঠটাই দাঁড়িয়ে থাকার মাঠ। বিচারের জন্য অপেক্ষা করার মাঠ। এটা কিন্তু শাস্তি না, শাস্তির শুরু।
যেমন জাকাত না দেওয়ার শাস্তির মেয়াদ বর্ণনার হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তার এ শাস্তি চলতে থাকবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, তারপর তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। জান্নাতের দিকে না হয় জাহান্নামের দিকে।’ (মুসলিম : ৯৮৭)
ভাইয়েরা, একটু কল্পনা করুন-৫০ হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন লাগবে! এবার চিন্তা করেন, তারাবির সালাত আপনার মাথার ওপর ফ্যান বা এসি চলছে। ছায়ায়, ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে আপনি আল্লাহর কালাম শুনছেন। দাঁড়িয়ে থাকতে একটু কষ্ট না হয় হচ্ছেই; কিন্তু কিয়ামতের দিনের কথা চিন্তা করলে কোনো তুলনা চলে বলেন? আপনি যদি সারা দিন পরিশ্রম করে কষ্ট করে এসে তারাবির নামাজের এই সুন্নত আমলটা করতে পারেন, আপনি হয়তো আল্লাহকে গিয়ে বলতে পারবেন, ‘আল্লাহ, জীবনে ৪০টি রমজান পেয়েছি, ৩০ দিন করে ধরলে ১২০০ দিন। আড়াই ঘণ্টা তারাবির সময়ও যদি ধরি, তিন হাজার ঘণ্টা সর্বোচ্চ দাঁড়িয়েছি এই আশায় যে আমাকে আপনি ৫০ হাজার বছর রোদে দাঁড় করিয়ে রাখবেন না, মাফ করে দেবেন।’
আল্লাহ কি আপনাকে মাফ করে দেবেন না? আপনার বিচারটা তাড়াতাড়ি করে জান্নাতে দিয়ে দেবেন না? ইনশাআল্লাহ, দেবেন। তারাবির সালাতটা মসজিদে ইমাম সাহেবের সঙ্গে পুরোটা পড়ুন ভাইয়েরা। বের হয়ে জায়েন না। এখন কষ্ট করলে কিয়ামতের দিন আরামে থাকবেন। দাঁড়াতে বেশি কষ্ট হলে আল্লাহকে বলবেন, মালিক তাওফিক দেন দাঁড়ানোরÑ আল্লাহুম্মা আ’ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিয়া ওয়া হুসনি ইবাদাতিক! দেখবেন আল্লাহ আপনাকে দাঁড়ানোর শক্তি দেবেনÑ আবার এর পুরস্কারও দেবেন, খালি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।
আল্লাহ, আপনাদের ভালো করুন ভাইয়েরাÑ সময় খুব কম। আমলের পাল্লা আমাদের খুবই হালকা আর পাপের পাল্লা ভারী। আমরা যেন সবাই এই রমজানে আর বছরের থেকে বেশি ইবাদত করে আল্লাহর কাছ থেকে সব গুনাহ মাফ নিয়ে নিতে পারি, জান্নাতে যেতে পারি!
ইফতারের দোয়া
অন্যান্য খাবারের মতো ইফতারের ক্ষেত্রেও সুন্নত হলো বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা। তবে শুরুতে এই দোয়াটিও পড়া যেতে পারে-
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিজের মাধ্যমে ইফতার করেছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)
আর ইফতার গ্রহণ সম্পন্ন হলে এই দোয়া পড়া সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন ইফতার গ্রহণ করে বলতেনÑ
উচ্চারণ : জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু; ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ : (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো।’ (আবু দাউদ, হাদিস, ২৩৫৭)
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

