প্রশ্ন : দেশজুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এবারের তীব্র শীতে সবাই কাতর। বিশেষত উত্তরবঙ্গের মানুষ এবং শহরের ভাসমান মানুষরা শীতে তীব্র কষ্ট অনুভব করছেন। এ অবস্থায় জানার বিষয় হলো, তীব্র শীতে কি তায়াম্মুম করা যাবে?
উত্তর : ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু বা গোসল করা যদি কারো জন্য ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে দেখতে হবে পানি গরম করার সুযোগ আছে কি না। পানি গরম করার সুযোগ থাকলে তার কর্তব্য পানি গরম করে অজু-গোসল করা। পানি গরম করার সুযোগ থাকার পরও তায়াম্মুম করা বৈধ হবে না।
যদি পানি গরম করার কোনো রকম সুযোগ না থাকে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু-গোসল করলে তীব্র শীতে তার মৃত্যু, অঙ্গহানি বা অসুস্থ হয়ে পড়া বা অসুখ বেড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, যেমন—কোনো অঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়া, বুকে ঠান্ডা লেগে যাওয়া, জ্বর বা সর্দি দেখা দেওয়া, অ্যালার্জিক সমস্যা, বাত-ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি, তাহলে তার জন্য অজু-গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা জায়েজ।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক, যদি তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে, অথবা যদি স্ত্রী সহবাস কর, তারপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি নাও এবং তোমাদের মুখ ও হাত তা দিয়ে মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নেয়ামত তোমাদের ওপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।’ (সুরা মায়িদা : ৬)
অজু ও গোসলের পরিবর্তে এক নিয়মেই তায়াম্মুম করতে হয়। তায়াম্মুমের নিয়ম হলো, তায়াম্মুমের নিয়ত করে মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু যেমন বালু, পাথর, চুন ও সুরমা ইত্যাদি কোনো কিছুতে দুবার হাত লাগানো, একবার হাত দিয়ে মুখ মাসাহ করা, আরেকবার কুনুই পর্যন্ত উভয় হাত মাসাহ করা।
উল্লেখ্য, কনকনে শীত, বৃষ্টি বা এ রকম কোনো কারণে অজু করা কষ্টকর হলে ওই সময় অজুর সওয়াবও বেড়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একদিন সমবেত সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব যে আমল করলে আল্লাহ গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?’ তারা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল!’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে অজু করা, দূরত্ব অতিক্রম করে মসজিদে যাওয়া এবং এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।’ (মুসলিম : ৪৯৪)
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

