‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাকাত’— এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার ২০২৬। অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জাকাত ফেয়ার উদ্বোধন করেছেন। শনিবার বেলা ১০টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে সেমিনারটি শুরু হয়।
সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত এই ফেয়ারের উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট’-এর অবদান অনেক। ইসলামে ১ হাজার বছর আগেও জকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে এসে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে পরিণত হয়। এতে জাকাতের গুরুত্ব অনেক কমে যায়।
উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া একটি দুঃখজনক বিষয়। জাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় করা হতো, তাহলে এই পেশা তাদের বেছে নিতে হতো না বা এ ধরনের সমস্যাও হতো না।”
তিনি বলেন, স্বামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা জাকাত দেয় না, তাদের ঈমান নেই। আমাদের দেশে অনেক ধনী সঠিকভাবে জাকাত দেন না। জাকাত কোনো ধরনের দান-দক্ষিণা নয়, বরং এটা গরিবের হক। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সমাজে উপেক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আজকের পৃথিবীতে আমরা গভীর এক দার্শনিক সংকটে পড়েছি। এই সংকট বিশ্বব্যাপী। এর তিনটি দিক আছে। প্রথমত : আমরা কোথায় যেতে চাই। এটা নিয়ে চিন্তার আরো প্রয়োজন রয়েছে। দ্বিতীয়ত : গন্তব্যে যাওয়ার পথ নিয়েও সংকট রয়ে গেছে। এ বিষয়টাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পথটা সঠিক না হলে সবকিছুই বৃথা যায়। তৃতীয় : দার্শনিক সংকটের আরেকটা বিষয় হচ্ছে ইন্সট্রুমেন্ট। জাতিসংঘও এই গন্তব্য নিয়ে গভীর সংকটে আছে।
জিল্লুর রহমান বলেন, সিজিএম যে উদ্যােগ নিয়েছে এটার একটা বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। জাকাতের যে বিষয়টা আজ সামনে এসেছে, এটার একটি আর্থিক দিক আছে। অবশ্যই এটা আরো সঠিকভাবে দেওয়া দরকার। আমার কাছে জাকাতের আর্থিক দায়িত্বের সঙ্গে নৈতিক দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, জাকাত দিয়েই আমার দায়িত্ব শেষ নয়; কারণ এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সেটা তদারকি করাও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সুতরাং জাকাত দেওয়ার শুরু থেকে অর্থ ব্যবহারের সবকিছুই দায়িত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
স্বাগত বক্তব্যে সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, “এক যুগের বেশি সময় ধরে জাকাত ফেয়ার আয়োজন করছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই। ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাকাত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে জাকাত অনেকে দেন না, যারা দেন তারাও সঠিকভাবে দেন না। তাই আমাদের উদ্দেশ্য জাকাত দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি। সম্প্রতি বিজনেস জাকাত বেড়েছে। বাংলাদেশে সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব।”
তিনি আরো বলেন, “ব্যক্তিগত জাকাত প্রদানের চেয় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দিলে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র। এর অর্থ হলো— আয়ের বৈষম্য। আর্থিক বৈষম্য হ্রাসে জাকাত বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইংল্যান্ডের কাছে হারল শ্রীলঙ্কা