এক সপ্তাহ গত হলো রমজান মাস শেষ হয়েছে। রমজানের সঙ্গে সাহরি-ইফতারের আনন্দঘন মুহূর্তও বিদায় নিয়েছে। কিন্তু রমজানের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় সম্পর্ক কি হয়ে গেছে? না, মুমিনের জীবনে এমনটা হয় না।
এক মাস সিয়াম সাধনা। দীর্ঘ অধ্যবসায়-অনুশীলন ও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—এভাবে মাহে রমজানের সৌভাগ্যে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। এই পরিবর্তন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যক্তিজীবনে কল্যাণ বয়ে আসে।
এই চমৎকার পরিবর্তনটা জীবনে বাস্তবায়নে ও রোজার সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নে সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। আর তা হলো—প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখের রোজা, আশুরার রোজা, ৯ জিলহজ আরাফার দিনের রোজাসহ অন্যান্য নফল রোজা।
রমজানে রোজাদার যদি মিথ্যা, অনর্থক বাক্যালাপ, অসদাচরণ ও মন্দ দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে না পারে, তাহলে তার রোজার পুণ্য কমে যায়। আর এই ঘাটতি পূরণ করতেই শাওয়ালের ছয়টি রোজা।
শাওয়ালের ছয়টি রোজার মাধ্যমে রমজানের রোজার শুকরিয়া আদায় করা হয়। যখন কোনো বান্দার আমল আল্লাহতায়ালা কবুল করেন, তখন তাকে অন্য নেক আমলের তাওফিক দেন। সুতরাং এ রোজাগুলো রাখতে পারা রমজানের রোজা কবুল হওয়ারও লক্ষণ।
রাসুল (সা.) নিজে এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের রাখার নির্দেশ দিতেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম, হাদিস : ২/৮২২)
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২/১৬২)
উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব?’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজান-পরবর্তী শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখো, তাতেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি : ১/১৫৭)
আসুন, শাওয়ালের ছয় রোজা রাখি এবং অন্যকে রাখতে উৎসাহিত করি। আল্লাহতায়ালা তাওফিক দান করুন।
লেখক : ইংল্যান্ডপ্রবাসী ইসলামি স্কলার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

