নারীর উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বিষয়ে ইসলাম কী বলে, জানালেন মাওলানা শিব্বীর আহমদ

নারীর উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বিষয়ে ইসলাম কী বলে, জানালেন মাওলানা শিব্বীর আহমদ

ইসলাম কি নারীদের শিক্ষাকে সীমিত করেছে কিংবা তাদের চাকরি ও কর্মসংস্থানকে অনুৎসাহিত করেছে—এমন নানা প্রশ্নের শরয়ী ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার উস্তাযুল হাদীস মাওলানা শিব্বীর আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইসলাম কখনোই নারীর শিক্ষাকে অবহেলার চোখে দেখেনি; তবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামের মূল দাবি।

সম্প্রতি ‘রিসালাতুল ইসলাম বিডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের পিছিয়ে রাখে বা তাদের শিক্ষাকে সমর্থন করে না—এমন প্রচার একেবারেই অমূলক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে নারীদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান এর বড় প্রমাণ। বিশেষ করে উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর মতো বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিস নারী সাহাবি ছিলেন, যিনি হাদিস বর্ণনার সূক্ষ্ম প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অনেক বড় বড় সাহাবির বর্ণনার ত্রুটি সংশোধন করে দিতেন। ফলে ইসলামে নারীর শিক্ষা অর্জনে কোনো বাধা নেই, তবে সেখানে পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকা অপরিহার্য। শরীয়তের অন্য কোনো বিধানকে বিপন্ন করে শিক্ষা গ্রহণ ইসলামে সমর্থিত নয়।

বিজ্ঞাপন

নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষাকে কেবল চাকরির মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় এবং চাকরি না করলে পড়াশোনা বৃথা মনে করা হয়। অথচ চাকরির বিষয়টি মূলত দুটি প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে—একান্ত প্রয়োজনের খাতিরে উপার্জন এবং অতিরিক্ত প্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া।

তিনি প্রাচীন ফিকহের দলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, কোনো নারীর যদি জীবিকা নির্বাহের কোনো অভিভাবক বা সংস্থান না থাকে, তবে তার উপার্জনের সুযোগ ইসলামে অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত পালনকালে যদি কোনো নারী চরম সংকটে পড়েন এবং তার ভরণপোষণের কেউ না থাকে, তবে দিনের বেলায় তার বাইরে গিয়ে হালাল উপার্জনের সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে। সুতরাং ইসলাম ঢালাওভাবে নারীর উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেনি।

তবে তিনি আধুনিক ক্যারিয়ার ভাবনার কিছু বাস্তব সংকটের দিক তুলে ধরে বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মূলত নারীদের ব্যাপকভাবে ঘরের বাইরে আনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইসলামে সৃষ্টিগতভাবেই পুরুষকে বাইরের দায়িত্ব ও ভরণপোষণের ভার দেওয়া হয়েছে এবং নারীর ওপর অর্পিত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও মাতৃত্বের মতো মহান দায়িত্ব।

নেপোলিয়নের সেই বিখ্যাত উক্তি—‘আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি দেব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সন্তানকে সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মায়ের যে সান্নিধ্য ও সময় প্রয়োজন, তা কোনো বাবার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফুলটাইম চাকরির কারণে মা যদি সন্তানকে সময় দিতে না পারেন, তবে পরবর্তী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক অহমিকার কারণে বর্তমান সমাজে বহু সংসার ভাঙনের মুখে পড়ছে।

মাওলানা শিব্বীর আহমদ পরামর্শ দেন, নারীরা ঘরে বসে দ্বীনি বা আধুনিক শিক্ষা দেওয়া কিংবা হালাল কোনো উপায়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, যাতে পারিবারিক দায়িত্ব বিঘ্নিত না হয়। আর একান্তই বাইরে চাকরি করতে হলে পর্দা, নিরাপত্তা ও শরীয়তের যাবতীয় বিধিবিধান শতভাগ রক্ষা করেই তা করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...