বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ এবার আর হচ্ছে না। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আইসিসির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এবং পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে আর্থিক জরিমানা, অংশগ্রহণ ফি কাটা কিংবা ভবিষ্যতে আইসিসি ও এশিয়া কাপের মতো আসরে নিষেধাজ্ঞার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা বলছে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কাগুলো হয়তো আদৌ বাস্তবায়িত হবে না।
কারণটি নিহিত আছে বয়কটের সিদ্ধান্তটি কার কাছ থেকে এসেছে, সেই প্রশ্নে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রথমে সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দেয়। এরপর বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পরই ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত ম্যাচ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নয়, সরাসরি দেশের সরকার ঘোষণা করেছে।
অতীতের নজির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার নির্দেশিত ম্যাচ বয়কটের কারণে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে আইসিসি কখনোই আর্থিকভাবে শাস্তি দেয়নি। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কা সফর করেনি। একইভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সরকারী নির্দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছিল।
এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইসিসি সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে পূর্ণ রাজস্ব ও অংশগ্রহণ ফি পরিশোধ করেছে এবং কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়নি। কারণ এসব সিদ্ধান্ত ছিল সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌম সরকারের, বোর্ডের নয়। আইসিসি সরকার নির্দেশিত বয়কটকে বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে।
একই যুক্তিতে বলা যায়, ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত যেহেতু পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে, তাই দেশটি বড় কোনো আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। বরং অতীতের নজির পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

