টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার জন্য ভারতকেই দায়ী করলেন আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা সামি-উল-হাসান বার্নি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশনস। তিনি মন্তব্য করেন, ভারত যদি কিছুটা কৌশলী হতো, তাহলে চলমান অস্থিরতা থেকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে রক্ষা করা যেত।
বার্নির মতে, মোস্তাফিজের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের চুক্তি বাতিলের বিষয়টি যদি বিসিসিআই প্রকাশ্যে না জানাতো এবং ব্যক্তিগতভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যবস্থা নিতে বলতো, তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট বর্জনের মতো পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তার ভাষ্য, “বিসিসিআইকে এটা প্রকাশ্যে জানাতে হতো না। সহজভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নির্দেশ দিলে কেউই জানত না, জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকত। ৩ জানুয়ারির সেই ঘোষণা ট্রিগার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আইসিসিতে এক দশকের বেশি কাজ করা বার্নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) মিডিয়া ডিরেক্টর হিসেবেও ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংক্রান্ত ইস্যুতে আইসিসির অবস্থান নাকভি ও পিসিবিকে হতাশ করেছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দ্বিমুখী নীতি ‘গোলপোস্ট সরিয়ে নেওয়া’ হিসেবে দেখছেন।
চলমান অস্থিরতায় পাকিস্তানের শাস্তির আশঙ্কাও করছেন বার্নি। আইসিসি যদি ন্যায়বিচার করে তাহলে পাকিস্তান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে বলে তার ধারণা। যার মধ্যে রয়েছে জরিমানা ও সম্প্রচার রাজস্ব হারানো। তিনি বলেন, “একটি ম্যাচ না খেলায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার, তাই পার্থক্য বিশাল। তবে ২০০৯–২০১৯ পর্যন্ত ঘরের মাঠে খেলতে না পারলেও পাকিস্তান বড় টুর্নামেন্ট জিতেছে—২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।”
সাবেক এই আইসিসি কর্মকর্তা মনে করেন, মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতীয় বোর্ডের প্রকাশ্য পদক্ষেপ এবং দ্বিমুখী নীতি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্থিরতার মূল কারণ। পাকিস্তান সব দিক বিবেচনা করেই তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সহজ কোনো কাজ ছিল না। এই ইস্যু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে, এবং আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হবে, সেদিকেই এখন ক্রিকেটভক্ত ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

