ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও আল নাসরের সম্পর্ক এখন বড় প্রশ্নের মুখে। সৌদি আরবের ক্লাবটির মালিকপক্ষের ব্যবস্থাপনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। একাধিক ইউরোপীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অসন্তোষের জেরেই আল নাসর ছাড়ার কথা ভাবছেন রোনালদো, আর তার ভবিষ্যৎ সৌদি আরবের বাইরে হতে পারে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা জানিয়েছে, সোমবার আল নাসরের লিগ ম্যাচে খেলতে অস্বীকৃতি জানান ৪০ বছর বয়সী রোনালদো। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সৌদি সার্বভৌম তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড-এর মালিকানাধীন অন্যান্য ক্লাব, বিশেষ করে আল হিলাল ও আল ইত্তিহাদের তুলনায় আল নাসরের প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
রোনালদোর অসন্তোষ আরও বেড়েছে আল হিলালের সাম্প্রতিক বড় সাইনিং নিয়ে। সৌদি ক্লাবটি ৩৮ বছর বয়সী করিম বেনজেমাকে দলে ভিড়িয়েছে, যা স্পষ্টতই রোনালদোর জন্য হতাশাজনক। তার মতে, সৌদি ফুটবলে সবচেয়ে বড় অবদান রাখার পরও তিনি ও তার ক্লাব প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
আরেক পর্তুগিজ দৈনিক রেকর্ড জানিয়েছে, ৪১তম জন্মদিনের দ্বারপ্রান্তে থাকা রোনালদো চলতি বছরের জুনেই আল নাসর ছাড়তে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মেজর লিগ সকার অথবা ইউরোপে প্রত্যাবর্তন—দুটিই সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, রোনালদোর রিলিজ ক্লজ ধরা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ইউরো।
রেকর্ড উল্লেখ করেছে, সৌদি প্রো লিগকে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় আনার ক্ষেত্রে রোনালদোর ভূমিকা ছিল নির্ধারক। সেই কারণেই তিনি মনে করেন, তার প্রতি আরও বেশি সম্মান দেখানো উচিত ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রোনালদো। এত কিছুর পরও নিজের ক্লাবের প্রতি পিআইএফ–এর আচরণকে তিনি ‘অন্যায়’ বলে মনে করছেন।
এই কারণেই সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামেননি রোনালদো। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১–০ ব্যবধানে জিতে নেয় আল নাসর। যদিও সৌদি আরবে নিজের প্রথম লিগ শিরোপা জয় এবং ক্যারিয়ারে ১,০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য এখনও অটুট রয়েছে তার।
এই মুহূর্তে রোনালদোকে এমএলএসে দেখা যাবে নাকি ইউরোপে কোনো চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটবে—সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহই সিআরসেভেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

