টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই আধুনিক বিনোদনের উচ্চমার্গ জগৎ, যেখানে ব্যাট হয়ে উঠবে তলোয়ার, প্রতিটি বলে দেখা যাবে অমানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন! ব্যাপারটা রূপকথার মতো মনে হলেও সেটা বাস্তবে ফিরিয়ে আনল ইংল্যান্ড। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ২২ গজ হয়ে উঠল সুনামির মঞ্চ, সেটাও ছাপিয়ে ব্যাট হাতে টর্নেডো সৃষ্টি করলেন ফিল সল্ট-জস বাটলাররা। আর তাতেই রেকর্ডের জোয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভাসিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৬৪ রানের বড় জয় তুলে নিলো ইংলিশরা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শুক্রবার তিনশ রানের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড। ফিল সল্ট, জন বাটলারদের ব্যাটিং তাণ্ডবে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ২ উইকেটে তোলে ৩০৪ রান। রান তাড়ায় প্রোটিয়াদের ইনিংস শেষ হয় ১৬.১ ওভারে ১৫৮ রানে।
ইংল্যান্ডের এই ৩০৪ রান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিন শতাধিক রানের তৃতীয় স্কোর। তবে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দুই দেশের লড়াইয়ে এটিই প্রথম। পেছনে পড়ে গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের ২৯৭। রেকর্ড ছোঁয়া এই ইনিংস খেলতে ৩০ বাউন্ডারির সঙ্গে ইংলিশরা হাঁকিয়েছেন ১৮টি ছক্কা।
রেকর্ড গড়া দলীয় ইনিংসের পথে ৩০ বলে ৮৩ রান করে আউট হন জস বাটলার। ৩৯ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ফিল সল্ট, ইংল্যান্ডের হয়ে যা দ্রুততম। সল্ট শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১৫ চার ও ৮ ছক্কায় ৬০ বলে ১৪১ রান করে। ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে তিনি ছাড়িয়ে যান নিজের ১১৯ রান।
ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন বোলার রান হজম করেন ৬০ বা এর বেশি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এমন নজির এটিই প্রথম। রান তাড়ায় প্রোটিয়াদের ইনিংস শেষ হয় ১৫৮ রানে। ১৪৬ রানের জয় এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়। তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার এটি সবচেয়ে বড় পরাজয়।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্যাটিংয়ো নেমে মার্কো জানসেনের করা প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলই বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ঝড়ের ইঙ্গিত দেন সল্ট। এরপরই শুরুর সুনামি। সল্ট-বাটলার জুটিতে ৩.২ ওভারেই পঞ্চাশে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রান আসে ১০০! পাওয়ার প্লেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড এটি। ১১৩ রানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার।
এরপর সুনামি পেরিয়ে শুরু হয় টর্নেডো। ১৮ বলে ফিফটি করে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৩ রানে থামেন বাটলার। এরপর জ্যাকব বেথেলকে নিয়ে সল্ট তোলেন ৪১ বলে ৯৫ রান। ১০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ১৬৬ রান। এই সংস্করণে যা বিশ্বরেকর্ড। এরপর ১৪ বলে ২৬ রান করে আউট হন বেথেল। ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে সল্ট পেছনে ফেলেন লিয়াম লিভিংস্টোনের ৪২ বলে শতরানের ইংলিশ রেকর্ড।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি হয়ে গেল সল্টের। অথচ, ইংল্যান্ডের বাকি সবাই মিলেই করেছেন চার সেঞ্চুরি! সল্টের সঙ্গে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ৪১ রান করে। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এই আসে ৩৭ বলে ৮৩ রান।
রান তাড়ায় নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও ভালো শুরু করে। ৩.৩ ওভারে ৫০ তুলে ফেলে তারাও। রায়ান রিকেলটন ১০ বলে ২০ রান করে আউট হওয়ার পর একই ওভারে ফেরেন লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও দ্রুত ফেরেন। এরপর আদিল রাশি মার্করামকে (১৯ বলে ৪১) ফেরালে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় রানের আশাও শেষ হয়ে যায়।
পরে ১১ বলে ২৩ রান করেন ডনোভান ফেরেইরা, ২৩ রান করতেই ২৫ বল খেলে ফেলেন ট্রিস্টান স্টাবস। পরের দিকে ১৬ বলে ৩২ রান করেন ফোরটান, যা তার ১৬৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সামগ্রিক ক্যারিয়ারের সেরা। প্রোটিয়াদের ইনিংস শেষ হয় ২৩ বল আগেই।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ ট্রেন্ট ব্রিজে রোববার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ৩০৪/২ (সল্ট ১৪১*, বাটলার ৮৩, বেথেল ২৬, ব্রুক ৪১*; ফোরটান ২/৫২)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬.১ ওভারে ১৫৮ (মার্করাম ৪১, ফোরটান ৩২, স্টাবস ২৩; আর্চার ৩/২৫, কারান ২/১১, ডসন ২/৩৪, জ্যাকস ২/২)
ফল: ইংল্যান্ড ১৪৬ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজের ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ফিল সল্ট।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

