ব্যাটিং ও বোলিংয়ে 'আরেকটু ভালো' করতে না পারার আক্ষেপ শান্তর

ব্যাটিং ও বোলিংয়ে 'আরেকটু ভালো' করতে না পারার আক্ষেপ শান্তর

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে ঢাকা টেস্টে জয়টা অনেক জরুরি ছিল বাংলাদেশের জন্য। তবে নিজেদের পছন্দমতো কন্ডিশন বানিয়েও হার দেখল টাইগাররা। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়কের কণ্ঠে ঝরেছে ব্যাটিং ও বোলিং ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পরেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয় বাংলাদেশের। তবে সেখান থেকে ১৪২ রান করে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেয় টাইগাররা। ম্যাচ জিততে লক্ষ্যটা যথেষ্ট ছিল কিনা, সে সম্পর্কে অধিনায়ক বলেন, '১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওটা হয়নি। ওদেরকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।'

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা একটা উইকেটও নিতে পারেননি। যে কন্ডিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনাররা ৯ উইকেট নিয়েছেন, সেখানে ঘরের মাঠে একটি উইকেটও নিতে পারেননি তাইজুল ইসলাম-মেহেদী মিরাজরা। স্পিনারদের এমন বোলিং নিয়ে হতাশা ঝরেছে অধিনায়কের কণ্ঠে।

তিনি বলেন, 'লেংথটা আমরা ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। অন্যথায় এত সহজে... বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে আমরা ওদের দুই উইকেট নিয়েছি। ম্যাচ হারলেও অন্তত ৭-৮টা উইকেট নিতে পারলে বুঝতাম যে রানটা কম হয়েছে। আমার মনে হয় একটু এলোমেলো ছিল (বোলিং)।

চতুর্থ ইনিংসে ভাগ্যটাও একটু খারাপ ছিল বাংলাদেশের। পাঁচবার আম্পায়ার্স কলে বেঁচে গিয়েছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। এটাকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যা দিলেও অযুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না শান্ত, 'যখন ১৭০ রান টার্গেট হয় তখন আম্পায়ারস কল পাঁচটার মধ্যে তিনটা আপনার দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। এটা আম্পায়ারকে দোষও দেয়া যায় না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে যদি তিনটা পেয়ে যেতাম বা শুরুতে যেটা পাইনি, সেটি হলে মোমেন্টাম ভিন্ন হতো। তবে এসব অযুহাত দিতে চাই না।'

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে এই ম্যাচে জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের জন্য। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর ফাইনাল খেলার বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, 'সত্যি বলতে এখন একটু কঠিন। তবে আমি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। এই ম্যাচে আমরা সেরটা খেলিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিভাবে ভালো কামব্যাক করতে পারি সেটাই চিন্তায় আছে।'

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মাঠে নামার এক সপ্তাহ আগেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছিলেন দলের একাধিক ক্রিকেটার। এতে প্রস্তুতিতে ঘাটতি হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে অধিনায়ক বলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এক ফরম্যাট ভালো হবে (প্রস্তুতি), আরেক ফরম্যাট ভালো হবে না। এগুলো তো থাকবেই। তবে আমার কাছে মনে হয়, আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। প্রতিটি ক্রিকেটার তাদের যে যে জায়গায় কাজ করা দরকার, সেই জায়গা থেকে প্রস্তুত হয়েই ম্যাচ খেলতে এসেছে।'

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন