জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি অফিসকক্ষে ক্রীড়া সংগঠককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পল্টন মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগ নম্বর হলো- ৩২২৯/২৬।
জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেল চারটায় ঢাকার পল্টনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ৭ম তলায় জাহেদ পারভেজের অফিসকক্ষে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মোলাম সাব্বির (মাসুম)। তার উদ্দেশ্য ছিল- মার্শাল কনফেডারেশনের খেলার জন্য বরাদ্দের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করা। কিন্তু কথাবার্তার একপর্যায়ে মোলামের সঙ্গে তর্কে জড়ান জাহেদ পারভেজ। পরে আরও ২/৩ জনকে নিয়ে অফিসকক্ষেই মোলামকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি।
এতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন মোলাম। শুধু তাই নয়, মোলামকে কাঠের স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তার দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা জোরপূর্বকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অফিসকক্ষে আটকে রেখে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন জাহেদ পারভেজ।
মোলাম সাব্বির মাসুম আমার দেশকে বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ। তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে আমি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অর্থ বরাদ্দের জন্য আমরা আগে ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছিলাম। যাতে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়, এ নিয়ে কথা বলতে আমি ক্রীড়া পরিষদে গিয়েছিলাম। ক্রীড়া পরিচালক আমাকে তার কক্ষে মারধর করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, তুই অভিযোগ করস, আমার বিরুদ্ধে। তুই একটা ফ্যাসিস্ট। আমি আসলে জানি না, আমি তার বিরুদ্ধে কী করেছি। তার সঙ্গে আর তো আমার কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। আমি এর উপযুক্ত শাস্তি ও বিচার চাই। পাশাপাশি জাহেদ পারভেজকে ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্ব থেকে যেন সরিয়ে দেওয়া হয়। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’
মোলামের অভিযোগটি তদন্ত করছেন পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নরোত্তম। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘উনি (মোলাম) গতকাল রাতে (বুধবার দিবাগত রাত ১২টায়) এসে একটি অভিযোগ করে গেছেন থানায়। সবকিছুর প্রমাণও দিয়ে গেছেন। আমি এখনো অভিযোগের কপি হাতে পাইনি। এই কপি পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করব।’
এ প্রসঙ্গে জাহেদ পারভেজের সঙ্গে আমার দেশের ক্রীড়া প্রতিবেদক মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি।
মোলামের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল মো. বদরুল আমিন (অব.)। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করাটা কোনোভাবেই উচিত নয়। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, ক্রীড়াঙ্গণের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। যদি এমন ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আমরা যাব কোথায়। আমরা সুন্দর, সৌহার্দ্য ও প্রীতিমূলক পরিবেশে কাজ করতে চাই।’
অন্যদিকে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে ক্রীড়া সংগঠককে পেটানোর ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মোঃ দৌলতুজ্জামান খাঁন, এনডিসি আমার দেশকে বলেন, ‘আমি আসলে এই ঘটনাটি জানি না। কোনো কিছু ভালো করে না জেনে আমি মন্তব্য করতে পারব না। যদি থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তো সেটার তদন্ত হবেই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

