আফ্রিকান নেশনস কাপের এবারের আসরের শুরুটা হয়েছিল জমজমাট। শেষটাও হলো রোমাঞ্চের। ফাইনালের মঞ্চে বিতর্ক, হট্টগোল আর উন্মাদনার পারদ থেমেছে অতিরিক্ত সময়ে। অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, হতবাক করা সব ঘটনা শেষে পাপ গেয়ির গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ঘরে তুললেন সাদিও মানেরা। দ্বিতীয়বার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতল সেনেগাল। প্রথমবার জিতেছিল তারা ২০২১ সালে। এক আসর বাদেই ফের শিরোপা জিতল দলটি।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতে পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সেনেগাল। সতীর্থের ক্রস গোলমুখে পেয়েও গোলরক্ষক বরাবর হেড নিয়ে হতাশ করেন পাপ গেয়ি। ৩৭তম মিনিটে মরক্কোর গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যর্থ ইলিমান। চার মিনিট পর দারুণ এক সুযোগ পায় মরক্কোও। কিন্তু বাঁ দিক থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও, বলে মাথা ছোঁয়াতেই পারেননি নায়েফ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে এল কাবির বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের কয়েক মিনিটে আরও তিনবার শট নিলেও জাল খুঁজে পায়নি মরক্কো। ৮১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে মরক্কো, যদিও আব্দেলের ওই দুর্বল ভলি সরাসরি যায় গোলরক্ষকের গ্লাভসে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটের কিছুক্ষণ পর ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগার পর, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠিয়েছিলেন ইসমাইল সার; তবে গোল মেলেনি আগেই রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোয়। হেড করার আগে গেয়ি আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন।
ব্যাপারটা বড় হয়ে ওঠে খানিক পর। আট মিনিট যোগ করা সময়ের তখন আর তিন মিনিটের মতো বাকি। কর্নার পায় মরক্কো, বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াজ। ভিএআরে কথা বলে মনিটরে নিজে দেখার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এরপর মাঠের বাইরে চলে যায় সেনেগাল।
এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই ৯৪তম মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে, ডি-বক্সে ঢুকেই বুলেট গতির কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে নেন পাপ গেয়ি। এই গোলেই জিতে মাঠ ছাড়ে সেনেগাল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

