মেয়াদকাল শেষে নবগঠিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাবেক কমিটি। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালনকালে খেলাটির মাঠের সাফল্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য ও ঘরোয়া আয়োজন
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত কমিটির দায়িত্বপালনকালে বাংলাদেশ দল ৯টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৭টিতেই সফলতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রোঞ্জ জয়, এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ লাভ, এবং নেপালের বিপক্ষে নারী ও পুরুষ টেস্ট সিরিজ জয়। এছাড়া এশিয়ান বিচ গেমস ও এশিয়ান যুব গেমসেও পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
একই মেয়াদে খেলাটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ঘরোয়া পর্যায়ে তৃণমূল, জোনাল ও জাতীয় ভিত্তিক ২৫টি ভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণের অংশ হিসেবে বিদায়ী কমিটি তাদের মেয়াদকালের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের সময় ফেডারেশনের কোষাগারে ছিল ৮ কোটি ১১ লাখ ২৩ হাজার ৯৯ টাকা। পূর্ববর্তী কমিটির রেখে যাওয়া বকেয়া বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ২২৬ টাকা পরিশোধ করা হয়। সরকার, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে এ সময়ে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৩ হাজার ৮৫৯ টাকা।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশ নেওয়া, প্রশিক্ষণ, বেতন এবং অফিস রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ টাকা। ৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৮১ টাকা নতুন কমিটির জন্য কোষাগারে রেখে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের কাবাডিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ কাবাডি কমপ্লেক্স’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময় ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেটি শেষ করা না গেলেও নবগঠিত কমিটি এই স্থানটিকে ব্যবহার করে কমপ্লেক্সটির কাজ শেষ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিদায়ী বক্তব্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘বিগত কমিটির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া আর নতুনদের দায়িত্ব নেওয়া অ্যাথলেটিকসের রিলে দলের ব্যাটন হস্তান্তরের মতো—যেখানে লক্ষ্য একটাই, দেশকে এগিয়ে নেওয়া। আমাদের সীমাবদ্ধতার দায় আমি সানন্দে নিজের কাঁধে নিচ্ছি, তবে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবে জাতীয় খেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে কাজ করেছি।’
তিনি আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কাবাডির ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখতে নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা জানান এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

