এশিয়ান গেমস

মেয়েদের টিকে থাকার শেষ লড়াই, প্রতিপক্ষ আজ মিয়ানমার

মেয়েদের টিকে থাকার শেষ লড়াই,
প্রতিপক্ষ আজ মিয়ানমার

টানা দুই হার। তারপরও স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের মেয়েদের। পরাজয়ের তেতো স্বাদ হজম করেও ২০তম এশিয়ান গেমসে কাগজ-কলমে খানিকটা হলেও এখনো টিকে রয়েছেন মারিয়া মান্দা-ঋতুপর্ণা চাকমারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। শুধু জিতলেই হবে না; পদক জয়ের আশা জিইয়ে রাখতে হলে ছিনিয়ে নিতে হবে বড় ব্যবধানের জয়। নিজেদের ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে আজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় বাঁশি বাজবে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুদলের জন্যই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অঘোষিত এক ফাইনালে।

গ্রুপ ‘এফ’-এর জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুদেশই। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে এশিয়ার দুই ফুটবল পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম খেলায় উত্তর কোরিয়ার শক্তিমত্তার কাছে বড় ব্যবধানে (১০-০) এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে চলে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রয়েছে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মিয়ানমারের অবস্থাও প্রায় একইরকম। তারাও নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরে পয়েন্ট তালিকার তিনে রয়েছে।

তবে পরপর দুই ম্যাচে বড় হারের পরও টুর্নামেন্টের বাইলজ বা নিয়ম অনুযায়ী আশা শেষ হয়ে যায়নি। নিয়ম অনুসারে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দলের সঙ্গে ছয়টি গ্রুপের মধ্যে সেরা দুটি ‘তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল’ সুযোগ পাবে শেষ আটে খেলার। ফলে মিয়ানমারকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেরা দুই তৃতীয় দলের একটি হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াই এখন কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যদের একমাত্র লক্ষ্য।

ফিফা র‍্যাংকিং বিচারে মিয়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে জোগাচ্ছে বাড়তি মানসিক সাহস। চলতি বছরই এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে মিয়ানমারকে তাদেরই ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সে ম্যাচে ঋতুপর্ণা চাকমার দুর্দান্ত জোড়া গোলের স্মৃতি এখনো সজীব। ঘরের মাঠে মিয়ানমারকে হারানোর সেই আত্মবিশ্বাস আজ সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের মানসিকভাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে জাপানের জে-গ্রিন সাকাই মাঠে কঠোর অনুশীলন চালিয়েছে বাংলাদেশ দল। গত দুই ম্যাচের ভুলত্রুটি পর্যালোচনা করে তা শুধরে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কোচিং স্টাফরা।

বাংলাদেশ দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল দলের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জানান, বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই মূলত প্রথম দুই ম্যাচে ভুলের পরিমাণ বেশি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে গত দুটি ম্যাচ খুবই শক্তিশালী দুদলের বিপক্ষে খেলেছি। সেখান থেকে আমাদের যতটুকু প্রাপ্তি ও ইতিবাচক দিক আছে, তা নিয়ে আমরা এগোতে চাই। গত দুদিন ধরে ভুলভ্রান্তিগুলো নিয়ে বিশেষ কাজ করা হয়েছে। বড় দলের সঙ্গে খেললে ভুল হওয়া স্বাভাবিক; কারণ আমরা এই লেভেলে খেলে অভ্যস্ত নই। তবে মেয়েদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা হচ্ছে।’

দলগত ইনজুরি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিফেন্ডার নবিরন ছাড়া দলে আর কোনো খেলোয়াড়ের চোটজনিত সমস্যা নেই। বাকি সবাই সম্পূর্ণ ফিট এবং মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। গতকাল অনুশীলন শেষে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘গত দুদিন ধরে আমরা ভালো ট্রেনিং সেশন করছি। মেয়েদের মধ্যে নবিরন ছাড়া তেমন কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই ।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতার অভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন গোলকিপিং কোচ, ‘বড় টিমের বিপক্ষে খেলতে গেলে আপনার অনেক ভুল হবেÑএটা স্বাভাবিক। কারণ, আমরা বড় টিমের বিপক্ষে বা এই লেভেলে খেলায় অভ্যস্ত নই।’

প্রতিপক্ষ মিয়ানমারের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মেয়েদের মানসিকভাবেও উজ্জীবিত রাখার প্রচেষ্টা নিয়ে এই কোচ বলেন, ‘মেয়েদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি, ভুলগুলো দেখাচ্ছি, সেটা মাঠে কীভাবে সঠিকভাবে শোধরানো যায়, সেটাও করানোর চেষ্টা করছি। বাকিটা উপরওয়ালার ইচ্ছা। আমরা নেক্সট ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরতে চাই।’

রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে আজ আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিকল্পনা করছেন কোচ পিটার বাটলার। শুরু থেকে চেপে ধরে খেলতে পারেন দেশের মেয়েরা। অন্যদিকে মিয়ানমার দল তাদের চিরাচরিত উইংভিত্তিক কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতিআক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে ম্যাচ বের করে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

দুদলের শক্তির সামঞ্জস্য এবং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার তীব্র তাড়না থেকে আজ ওসাকায় এক জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ভুল শুধরে একটি স্মরণীয় জয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে দেশে ফেরাই মেয়েদের মূল লক্ষ্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...