সুইমিংপুলে যেন গতির ঝড় তুলেছেন চীনের তরুণ সাঁতারু ইউ জিদি। নারী ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে চার মিনিট ২৮.৫৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন এই স্কুলপড়ুয়া অ্যাথলেট। এর মধ্য দিয়ে চলতি আসরে অংশ নেওয়া তিনটি ইভেন্টের তিনটিতেই সোনা জেতার অনন্য হ্যাটট্রিক করলেন ১৩ বছরের এই কিশোরী।
এর আগে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ মিটার মিডলে এশিয়ান গেমসের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ইউ। ৪০০ মিটার মিডলেতে ২০১৪ সালে চীনের ইয়ে শিওয়েনের করা রেকর্ডকে তিনি ৪.৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙে ফেলেছেনÑচলতি বছর বিশ্বে এখন পর্যন্ত যা চতুর্থ সেরা টাইমিং। আর শীর্ষ তিনটি সময়ের মালিক বিশ্বরেকর্ডধারী সামার ম্যাকিনটোশ।
পুলের পারফরম্যান্সে একের পর এক আধিপত্য দেখালেও বিনয়ের কমতি ছিল না এই উদীয়মান তারকা সাঁতারুর কণ্ঠে। অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের এ জয়কে ‘সহজ’ বলে মনে করছেন কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে কিছুটা চোখ বড় করে ইউ জবাব দেন, ‘একদমই না! এটি কোনোভাবেই সহজ ছিল না, বরং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
প্রায় ৩.৯৫ সেকেন্ড পেছনে থেকে রৌপ্য জিতে নিয়েছেন তারই স্বদেশি ১৫ বছর বয়সি সাঁতারু কে ওয়েনসি। ব্রোঞ্জ জিতেছেন জাপানের মিও নারিতা। পুলে লড়াই থাকলেও পুলের বাইরে চীনা দুই কিশোরীর সখ্য নজর কেড়েছে সবার। প্রতিযোগিতা শেষে দুজন মিলে ‘হার্ট সাইন’ বানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। রুমমেট ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়েনসিকে নিয়ে ইউ বলেন, ‘আমরা ভালো বন্ধু, এবার এক রুমেই ছিলাম। সারাদিন আমরা একে অপরকে উৎসাহ জুগিয়ে গেছি।’
তিনটি সোনা এবং গেমসের নতুন রেকর্ড ঝুলিতে পুরলেও নিজেকে নিয়ে এখনই ভেসে যাচ্ছেন না ইউ। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, ভুলগুলো শুধরে নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। ইউর ভাষায়, ‘এই গেমস থেকে অনেক কিছু পেয়েছি; তবে কিছু আক্ষেপও রয়ে গেছে। ভুলগুলো পর্যালোচনা করব, যাতে পরেরবার আরো ভালো করতে পারি। কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া এবং নিজের সীমাকে অতিক্রম করাই আমার লক্ষ্য।’
বয়স কম হলেও এখনই বিশ্ব সাঁতার মঞ্চে নিজেকে অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জানান দিচ্ছেন এই চীনা কিশোরী। ২০২৮ অলিম্পিক আসরে যে তিনি বড় ধরনের পদকপ্রত্যাশী হিসেবে পানিতে নামবেন, তা এখন থেকেই স্পষ্ট।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

