৬ এপ্রিল ক্রীড়া দিবস

স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়

স্পোর্টস ডেস্ক

স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের নতুন প্রত্যয়

আজ ৬ এপ্রিল, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্রীড়া দিবস। এদিন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক কর্মসূচি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘খেলাধুলা : সেতুবন্ধন গড়া, বাধা ভাঙা’কে সামনে রেখে খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের সীমা ছাড়িয়ে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সংহতি, যুব উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলাকে টেকসই ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় নীতিতে খেলাধুলার তথ্য ও প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করছে, যাতে প্রমাণ করা যায়—ক্রীড়া অবকাঠামোয় বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় কমাতে সহায়ক। এই লক্ষ্য সামনে রেখে পাবলিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকগুলো একত্রিত হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ইউনেসকোর ‘ফিট ফর লাইফ’ কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং মহামারির পর তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক স্থিতি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনায় খেলাধুলাকে সামাজিক পরিবর্তন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী, শরণার্থী ও প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অলিম্পিক মূল্যবোধ—উৎকর্ষ, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিশেষ প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘স্পোর্টস ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সাদা কার্ড’ প্রচার এ বছরও অন্যতম আকর্ষণ। শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে একযোগে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, প্রমাণভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে খেলাধুলার প্রকৃত সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব পরিমাপ করা যায়।

বাংলাদেশেও জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য খাতেও খেলাধুলাকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাঁটা, দৌড় বা ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরে গণসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘসময় স্থির থাকার প্রবণতা কমাতে বিভিন্ন প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হাঁটাকে সবচেয়ে সহজ ও সবার জন্য উপযোগী শারীরিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। একইসঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাবাডি, লাঠিখেলা ও অন্যান্য লোকজ খেলাধুলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগও রয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও করপোরেট খাতকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে ক্রীড়া শোভাযাত্রা, স্কুলভিত্তিক প্রতিযোগিতা, সকালবেলার ব্যায়াম কর্মসূচি এবং গ্রামীণ ক্রীড়া আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাধুলা দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: