আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের শুরু থেকে প্রবাসী তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমকে পাওয়া ঘিরে শঙ্কা রয়েছে। মূলত সাফের জটিল সূচির কারণেই এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ৯-১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফা উইন্ডো। ফিফা উইন্ডো আর সাফ সূচির ব্যবধানেই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাফ শুরুর তারিখ অর্থাৎ ৪-৮ নভেম্বর পর্যন্ত—এই কদিন ফিফা উইন্ডোর আওতাভুক্ত নয়। তাই জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয় ক্লাবগুলো। ফিফা উইন্ডোর বাইরের সময় হামজা ও শমিতকে যদি খেলার অনুমতি না দেয় তাদের ক্লাব, তাহলে বাংলাদেশের কিছু করার থাকবে না।
লেস্টার সিটি ছাড়তে পারেন হামজা। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনা চাউর হয়েছে যে, ক্লাবটির সঙ্গে ১৬ বছরের ইতি টানতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি এই তারকা মিডফিল্ডার। প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নেমে যাওয়ার পর এবার ইংলিশ তৃতীয় স্তরের ফুটবল লিগ ওয়ানে লেস্টার। যদি শেষ পর্যন্ত নতুন ঠিকানা খুঁজে নেন হামজা, তাহলে ওই ক্লাব সাফের সময় ফিফা উইন্ডোর বাইরে সূচিতে তাকে ছাড়বে কি না—সেটি নিয়ে সংশয় থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমসে যোগ দিয়েছেন শমিত। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের কাভ্যালরি এফসির সঙ্গে তিন বছরের অধ্যায় শেষ হয়েছে তার। শমিতের নতুন ক্লাবের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা উইন্ডোর বাইরের সময় ক্লাবের সূচি থাকে। তাই শমিতকেও সাফের শুরুতে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে ফিফা উইন্ডোর বাইরে যদি দলের সূচি নাও থাকে আর ক্লাবগুলো যদি নিয়ম মেনেই সাফ টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচগুলোতে হামজা-শমিতকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সাফের প্রথম ম্যাচগুলোতে তাদের পাওয়া যাবে না। অভিজ্ঞ এই দুই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। পরীক্ষিত হাই-প্রোফাইল এই দুই খেলোয়াড়কে ছাড়া সাফের শুরুতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বে বাংলাদেশ। তাদের অনুপস্থিতি দলের সামগ্রিক কৌশলেও বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে ওঠার জন্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে যখন পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে, তখন বাংলাদেশের সামনে থাকবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
২০০৩ সালে একবারই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর আবার ঘরের মাঠে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার মিশন নিয়ে সাফে নামবে তারা। প্রবাসী যে ফুটবলারদের ঘিরে আশার আলো জ্বলে উঠেছে, তারাই যদি শুরু থেকে না খেলতে পারেন তাহলে সাফের স্বপ্নে ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও হামজা-শমিতের খেলা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্তারা। বাফুফে সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ক্লাবগুলোকে ম্যানেজ করে হামজা ও শমিতকে খেলানোর চেষ্টা করা হবে। যদি নিয়ম মেনে ফিফা উইন্ডোর বাইরের সময় খেলোয়াড় না ছাড়ে ক্লাবগুলো, তাহলে সেভাবেই প্রস্তুতি নেবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে হবে গ্রুপ পর্যায়ের খেলা। যদিও পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করেনি সাফ কর্তৃপক্ষ। তবে আগামী ৯ নভেম্বরের আগে গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ নাও পড়তে পারে। তাই বাফুফের প্রত্যাশা—দুয়েকটি ম্যাচ মিস করলেও টুর্নামেন্টের বাকি সময় হামজা ও শমিত পুরোদমে পাওয়া যাবে। তবে টুর্নামেন্টের আরো অনেক সময় বাকি। তাই সাফ নিয়ে বর্তমানে বেশি মাথা ঘামাচ্ছে না বাফুফে। বাফুফে কর্তাদের সব মনোযোগ এখন আগামী সেপ্টেম্বর ফিফা উইন্ডোকে ঘিরে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে আসিয়ান কাপে খেলবে কি না বাংলাদেশ—সেটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। জানা যায়, আসিয়ানে না খেলার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের। যদি আসিয়ানে খেলে বাংলাদেশ, তাহলে ঘরের মাঠে কিংবা কিরগিজস্তানে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলবে না লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। আর সেপ্টেম্বরের উইন্ডোতে বিদেশি লিগে খেলা হামজা-শমিতসহ প্রবাসী সব ফুটবলারদের পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিত করেছে ফুটবল ফেডারেশন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

