অমিত সম্ভাবনা এবং অফুরন্ত তারুণ্যের দেশ বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্নিহিত ক্রীড়া সম্ভাবনাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রথম বীজ বপন করেছিলেন এক দূরদর্শী ক্রীড়াপ্রেমী রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের ক্রীড়া কাঠামোর আধুনিক পুনর্নির্মাণ, দেশব্যাপী ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার যুগান্তকারী উদ্যোগ, ক্রীড়ার জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলীকে ঢাকায় এনে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে তিনি এদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বের বুকে এক অনন্য মর্যাদার আসনে উন্নীত করার সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই সোনালি ধারাবাহিকতাকে আপন দক্ষতায় আরও এগিয়ে নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তার শাসনামলে বাংলাদেশ সাফ গেমসের মতো বড় আসর অত্যন্ত সফলভাবে আয়োজন করে এবং প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে। দেশে নতুন ক্রীড়া প্রতিভা এবং বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদদের উত্থান ও ক্ষমতায়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। ঠিক সেই সম্ভাবনাময় সময়েই, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং দেশের আধুনিক ক্রিকেটের রূপকার হিসেবে নিভৃতে কাজ করে গেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ তাদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি, অনবদ্য ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। তার সুস্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী নির্দেশনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নানামুখী বৈপ্লবিক কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খেলাধুলাকে একটি নিশ্চিত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া কার্ড’ ‘ক্রীড়া ভাতা’ প্রবর্তন করা, দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম ও ৬৪ জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে এবং পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশে ‘ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্প’ গড়ে তুলতেও কাজ করে যাচ্ছে। এরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শুরু হতে যাচ্ছে দেশব্যাপী মেধা অন্বেষণের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এর মাধ্যমে দেশের নিভৃত পল্লী থেকে উঠে আসবে আগামী দিনের তামিম, হামজা, সাবিনা আর জাহানারা। এই সুসংগঠিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম সকল নেতিবাচকতা এড়িয়ে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। ক্রীড়ার এই অদম্য শক্তিতেই বদলে যাবে সমাজ এবং বিশ্বমঞ্চে বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

