ফুটবলের মহোৎসবে মেতে উঠেছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া নিজেদের জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচটি দেশবাসীকে দেখার সুযোগ করে দিতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পানামা সরকার। ম্যাচটি যেন সবাই উপভোগ করতে পারে, সেজন্য বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে জাতীয় ও পৌরসভা পর্যায়ের সকল সরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ-এর বরাতে জানা গেছে, সরকারি এক নির্বাহী ডিক্রি অনুযায়ী সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করার পর ছুটি পান। সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকুরিজীবীরা খেলা চলাকালীন তাদের জাতীয় দল ‘রেড টাইড’-কে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দেশের জন্য এই ম্যাচটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।
তবে ফুটবল উন্মাদনার মাঝেও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে এই আদেশের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। নিরবিচ্ছিন্ন সেবা ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বার্থে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সচল ছিল।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ঘানার মুখোমুখি হয়েছিল পানামা। তবে সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ এবং কোটি ভক্তের তুমুল সমর্থন সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসা হয়নি দলটির। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানার কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে মধ্য আমেরিকার দেশটি।
এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল পানামা। সেবার গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এরপর গত আসরে (কাতার ২০২২) তারা বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ ৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে ফের বিশ্বমঞ্চে ফিরে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, নিজেদের দলের প্রতি পানামাবাসীর এই অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

