বাংলাদেশ প্রথম দুই দিনে যা করেছে, তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে। স্কোরকার্ড দেখে যে কারোই এমনটা মনে হবে। কিন্তু কথাটা খানিকটা ভুল- এটা আসলে হবে বাংলাদেশ গত দুই দিনে যা করেছে তা যে সঠিক ছিল না সেটাই প্রমাণ করেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের মতো ধীরগতিতে এগোয়নি লঙ্কানদের ইনিংস। প্রায় ৪ এর কাছাকাছি রানরেটে পুরো দিন ব্যাটিং করেছে স্বাগতিকরা। তাতে ৯৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৬৮ রানে দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। আক্রমণাত্মক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা যেন সাদা পোশাকে খেলতে নেমেছিলেন ওয়ানডে ম্যাচ। ৭০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা নিশাঙ্কার ইনিংস থেমেছে ১৮৭ রানে। তাও দিনের শেষ বেলায়। তা না হলে স্কোরকার্ডে শ্রীলঙ্কার পাশে থাকত আরো অন্তত ২০ রান। ৩৬৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরুর অপেক্ষায় থাকা লঙ্কানরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১২৭ রানে পিছিয়ে আছে।
ঐতিহ্যবাহী গলে সাধারণত টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটারদের জন্য থাকে বাড়তি সুবিধা। গতকাল পুরো দিনে সেই সুবিধাটাই খুব ভালোভাবে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় দিনের শুরুতে নাহিদ রানার বিদায়ের পর পুরো দিনে ছিল লঙ্কান আধিপত্য। পাথুম নিশাঙ্কার সঙ্গে অভিষিক্ত লাহিরু উদারা নামে ওপেনিংয়ে। শুরু থেকে তারা দুজনে ছিলেন মারকুটে ভঙ্গিমায়। একরকম ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালান তারা দুজন। অবশ্য ওই উদ্বোধনী জুটি খুব একটা বড় হয়নি। ৪৭ রানে উদারা ফিরলে ভাঙে এই জুটি। পরের অংশে শুধুই পাথুম নিশাঙ্কার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের গল্প।
চতুর্থ-পঞ্চম দিনে গল টেস্টের উইকেট চলে যায় স্পিনারদের পক্ষে। বছরের পর বছর ধরে গলে হওয়া টেস্টে এমনটাই হয়ে আসছে। ফলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার খুব ভালোভাবেই জানা ছিল ব্যাটিংয়ে তাদের কী করতে হবে। ঠিক সেটাই করেছেন পাথুম নিশাঙ্কা-দীনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসরা। বাংলাদেশি বোলারদের বল দেখেশুনে খেলেছেন তো বটেই। সঙ্গে যখনই সুযোগ পেয়েছেন রান তুলেছেন ওয়ানডে গতিতে। মনে হচ্ছিল, হয়তো তৃতীয় দিনের শেষেই লিড সঙ্গী করে মাঠ ছাড়বে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
শুরু থেকে ওয়ানডে স্টাইলে খেলা পাথুম নিশাঙ্কার ইনিংস থামে দিনের একদম শেষ ভাগে। এর আগে দিনের প্রতিটি সেশনেই ব্যাটিং করা পাথুমের ব্যাটে আসে ২৫৬ বলে ১৮৭ রান। ২৩ চার ও ১ ছক্কায় এই ইনিংস সাজান তিনি। পাথুম যখন একের পর এক চার হাঁকিয়েছেন, তখন তার দলের অন্য কোনো ব্যাটার বাউন্ডারি সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘরের নিতে পারেননি। তাতেই স্পষ্ট কতটা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। নিশাঙ্কা ছাড়া আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পসরা সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ৬৯ বলে ৩৯ রান করা ম্যাথিউস ইনিংসের শেষদিকে এসে ধরে রাখতে পারেননি ব্যাটের ধার। তাতেই মূলত তাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। তাকে ফেরান পার্টটাইম স্পিনার মমিনুল হক।
লঙ্কান ব্যাটারদের এমন দাপটের দিনে অসহায় ছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা। মেহেদি হাসান মিরাজ না থাকায় এমনিতেই একজন কম বোলার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। তার ওপর লঙ্কানদের এমন ব্যাটিং! তাতেই খানিকটা ঘাবড়ে যায় সফরকারীরা। অবশ্য শুরুর দিকে এমনটা ছিল বাংলাদেশের অবস্থা। লঙ্কানদের ইনিংসের শুরুতেই প্রতিপক্ষ ডেরায় আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। ফেরান অভিষিক্ত ওপেনার লাহিরু উদারাকে। প্রথম সেশনে আসেনি আর কোনো সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনে অভিজ্ঞ দিনেশ চান্দিমালকে (৫৪) ফেরান নাঈম হাসান। ততক্ষণে অবশ্য বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল। কারণ ততক্ষণে দ্বিতীয় উইকেটে লঙ্কানরা যোগ করে ১৫৭ রান। পরের দুই জুটি অবশ্য খুব একটা বড় হয়নি। দলীয় ২৯৩ রানের মাথায় ফেরেন ম্যাথিউস। আর পাথুম নিশাঙ্কা ফেরেন দলীয় ৩৩১ রানে। তৃতীয় দিনের শেষে অপরাজিত থাকা কামিন্দু মেন্ডিস (৩৭) ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১৭) দলকে কতদূর টেনে নেন- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

