গল টেস্ট শুরু কাল

ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

নিজেদের ওই শততম টেস্ট ছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশাকে বাংলাদেশ দলের নেই জয়ের কোনো রেকর্ড। বর্তমান পরিস্থিতিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করবে এমন আশা করাটাও খানিকটা দুরূহ। সম্ভবত খুব আশাবাদী ব্যক্তিও লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট জয় নিয়ে খুব একটা ভাবতে পারছে না। এর সবচেয়ে বড় কারণ দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ও বাংলাদেশ দলের সবশেষ পারফরম্যান্স। লঙ্কানদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২৬ টেস্টে এক জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের হার ২০ ম্যাচ ও বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার গলে নিজেদের পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

দীর্ঘ আট বছর পর গল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। সবশেষ ২০১৭ সালে এই মাঠে লঙ্কানদের কাছে ২৫৯ রানের বড় ব্যবধানে হারে। এর আগে ২০১৩ সালে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬৩৮ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে ড্র করে ম্যাচ। গলে মাঠে নামার আগে তাই নাজমুল হোসেন শান্ত-মমিনুল হকদের সঙ্গী হবে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা।

বিজ্ঞাপন

পূর্ব অভিজ্ঞতার চেয়ে অবশ্য সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স। সাদা কিংবা রঙিন- কোনো ফরম্যাটেই নিজেদের জাত চেনাতে পারছেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। দিন কয়েক আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্ট হারের পর মেহেদি হাসান মিরাজের বোলিং ঘূর্ণিতে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করে। তবে ওই ম্যাচ জয়ের পর বারবারই নানা আলোচনায় বলা হয়েছে ম্যাচ জিততে স্পিন উইকেটের শরণাপন্ন হয়েছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের ওই উইকেটের সঙ্গে গলের উইকেটের থাকতে পারে খানিকটা মিল। এই মাঠে বারবার প্রতিপক্ষকে স্পিন আক্রমণের ফাঁদে ফেলেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে পারে স্বাগতিকরা।

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের ফিটনেস নিয়ে। জ্বরে ভোগা মিরাজকে এই ম্যাচে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। সেক্ষেত্রে আরেক ডানহাতি স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর ভরসা করতে হবে। স্পিন উইকেটে শেষ পর্যন্ত মিরাজকে খেলাতে না পারলে হয়তোবা হাসান মুরাদের মাথায় উঠতে পারে টেস্ট ক্যাপ।

স্পিন আক্রমণ নিয়ে না যতটা বেশি চিন্তা, টিম ম্যানেজমেন্টের তার চেয়ে বেশি চিন্তা ব্যাটিং নিয়ে। কারণ প্রতিপক্ষ দলে যে আছেন প্রবাথ জয়াসুরিয়া ও আকিলা ধনঞ্জয়ার মতো স্পিনার। এ ছাড়া দুই হাতে বোলিং করে ভড়কে দিতে কামিন্দু মেন্ডিস ও থারিন্দু রত্নানায়েকের মতো স্পিনাররাও রাখতে পারেন বড় প্রভাব। লঙ্কান স্কোয়াডে স্পিনারদের এমন আধিপত্যে একটু হলেও আভাস পাওয়া যাচ্ছে গলের উইকেটে থাকবে স্পিন আধিপত্য। বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় থাকছে স্বাগতিকরা।

সেই চ্যালেঞ্জ উতরে বাংলাদেশ কতটুকু সফল হতে পারবে ঐতিহাসিক গল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশি সমর্থকরা অপেক্ষায় শুধু একটি জয়ের। আর এই জয়ে ফের ফেরার অপেক্ষায় ক্রিকেট ‘ক্রেজ’।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন