দলের ত্রাতা হতে কে না চায়? তবে আমাদ দিয়ালো বোধহয় একটু বেশি চান মন-প্রাণ থেকে। গত ডিসেম্বরে তার প্রথম প্রমাণটা রেখেছেন এ ফরওয়ার্ড। ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণে প্রায় দুই মিনিটের ঝড়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল তাদের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৮৮ ও ৯০ মিনিটে ২ গোল ছিনিয়ে নিয়ে ইতিহাদ ছেড়েছিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের টর্নেডো আগ্রাসনের মধ্যে জয়সূচক গোলটি উপহার দিয়েছিলেন আমাদ দিয়ালো। আইভরিকোস্টের এ ফুটবলার আবারও নায়ক হলেন ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে।
তবে এবার তার বীরত্বে অ্যানফিল্ড থেকে অবশ্য জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি দল রেড ডেভিলরা। কিন্তু দিয়ালোর সেই গোলই মূল্যবান একটি পয়েন্ট এনে দিয়েছে ইউনাইটেডকে। অথচ অতিথি দলটি পিছিয়ে ছিল ২-১ গোলে। শেষে পয়েন্ট তালিকার সবার ওপরে থাকা লিভারপুলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করতে পেরেই যেন আনন্দের বন্যায় ভাসছে ম্যানইউ। বাজে সময়ের দুষ্ট চক্রে আটকে পড়া কোচ রুবেন আমোরিমের শিষ্যদের জন্য এ ড্র যেন জয়ের সমতুল্য। শুধু দুই পয়েন্টই নয়।
ম্যানইউ ফিরতে পারত পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে হ্যারি ম্যাগুয়ার লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসনকে একা পেয়েও বল গোলবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়ায় সেটার আর সম্ভব হয়নি। হোঁচট খেয়েও তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে এখন লিভারপুল। তার ওপর এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা।
ব্যাপক তুষারপাতের কারণে ম্যাচটি হয়ে পড়েছিল অনিশ্চিত। বাধা পেরিয়ে শেষে নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়ায় ম্যাচটি। তবে প্রথমার্ধ ছিল গোল শূন্য। বিরতির পর খেলা শুরুর সাত মিনিটের মধ্যে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। আর্জেন্টাইন তারকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ম্যাচের ৫২ মিনিটে দারুণ এক গোল উপহার দিয়ে লিড এনে দেন ইউনাইটেডকে। তবে স্কোর লেভেল করতে মোটেই সময় নেয়নি দ্য রেড শিবির। সাত মিনিট বাদেই কোডি গাকপো সমতায় ফেরান লিভারপুলকে। পরে ৭০ মিনিটে মিসরীয় ফুটবল রাজপুত্র মোহাম্মদ সালাহ পেনাল্টি থেকে নির্ভুল নিশানায় জালে ঠিকানা খুঁজে নিলে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে মার্সেসাইড ক্লাবটি। অন্তিম মুহূর্তে ম্যানইউয়ের নায়ক বনে যান দিয়ালো। ম্যাচের শেষ মিনিটে গোল করে সফরকারীদের ডাগআউটে উচ্ছ্বাসের বন্যা বইয়ে দেন এ তরুণ তুর্কি। এই গোলের সুবাদেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থেকে যায় অমীমাংসিত। এ নিয়ে চার ম্যাচ পর এই প্রথম হার এড়াতে পেরেছে তালিকার ১৩ নম্বরে থাকা কোচ রুবেন আমোরিমের ক্লাবটি।
লিভারপুলের বিপক্ষে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স কেন সব সময় উপহার দিতে পারে না ইউনাইটেড? ম্যাচ শেষে সতীর্থ ফুটবলারদের প্রতি সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন মাঝ-মাঠের তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ‘আমি কিছুটা হতাশ এই ভেবে যে আমরা যদি লিভারপুলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারি তবে প্রতি সপ্তাহে কেন পারি না?’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

