আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চ্যাম্পিয়নস লিগ

গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বার্সা-লিভারপুল-বায়ার্ন

স্পোর্টস ডেস্ক

গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বার্সা-লিভারপুল-বায়ার্ন

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের লড়াই পৌছে গেছে শেষ ধাপে। প্রতিটি ম্যাচই এখন হিসাবের খাতা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তেমনই গুরুত্বপূর্ণ আজ রাতে লড়াইয়ে নামছে ইউরোপের তিন জায়ান্ট বার্সেলোনা, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখসহ কয়েকটি দল। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে মাঠে নামবে গালাতাসারাই-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও কারাবাগ-ফ্রাঙ্কফুট। বৃহস্পতিবার রাত ২টায় লড়াইয়ে নামবে মার্সেই-লিভারপুল, নিউক্যাসল-পিএইচভি, স্লাভিয়া প্রাগ-বার্সেলোনা, জুভেন্টাস-বেনফিকা, চেলসি-পাফোস, বায়ার্ন-ইউনিয়ন সেইন্ট ও আটলান্টা-অ্যাথলেটিক বিলবাও।

রাতের অন্যতম আকর্ষণ বার্সেলোনার ম্যাচ। স্লাভিয়ার বিপক্ষে তাদের লড়াইটা জমজমাট হবে বলেই ধারণা। স্লাভিয়া নিজেদের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি ৪–৩ গোলে জিতেছিল। এদিক দিয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামবে বার্সা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লাবটির জন্য সময়টা মোটেও সহজ যাচ্ছে না। লিগ পর্বে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে একটিও জয় পায়নি। তিনটি ড্র ও তিনটি হারে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৩ পয়েন্ট, টেবিলের ৩৩তম স্থানে তারা। প্লে-অফ জায়গা থেকে তারা পিছিয়ে আছে চার পয়েন্টে, ফলে এই ম্যাচে জয় পাওয়া স্বাগতিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বার্সেলোনা চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় ম্যাচে তিন জয়, এক ড্র ও দুই হার নিয়ে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। এতে তারা টেবিলের ১৫তম স্থানে রয়েছে এবং টপ-এইট থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে, ফলে এই ম্যাচটি হান্সি ফ্লিকের দলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গালাতাসারাই স্বাগত জানাবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। ইস্তানবুলের উত্তপ্ত গ্যালারি বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম। সেই পরিবেশে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য এটি বড় পরীক্ষা। সিমিওনের দল সংগঠিত রক্ষণ আর কাউন্টার অ্যাটাকে অভ্যস্ত হলেও, গালাতাসারাই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। তাদের বড় শক্তি হোম সাপোর্ট ও উইং আক্রমণ। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর ভরসা অভিজ্ঞ রক্ষণ ও দ্রুত কাউন্টার।

জুভেন্টাস ও বেনফিকার দ্বৈরথে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন দর্শন। জুভেন্টাসের বাস্তববাদী ফুটবল বনাম বেনফিকার গতিময় আক্রমণ। জুভেন্টাসের ডিফেন্সিভ গঠন ও সেট-পিস শক্তিশালী। বেনফিকার মূল অস্ত্র সৃজনশীল মিডফিল্ড ও উইং আক্রমণ। এবার মাঠের লড়াইয়ে কি হয় সেটাই দেখার।

মার্সেই বনাম লিভারপুলের লড়াই রাতের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ। ফরাসি দর্শকদের সামনে মার্সেইয়ের বিপক্ষে লিভারপুলের লড়াই মোটেই সহজ কিছু হবে না। মার্সেইয়ের দর্শকদের 'কুখ্যাত' বলে পরিচিতি আছে। সেটা সামলাতে না পারলে পাশার দান উল্টে যেতে পারে। দুই দলই হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, ফলে ম্যাচটি হতে পারে রোমাঞ্চকর। মার্সেইয়ের বড় শক্তি ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থন। লিভারপুলের ভরসা গতি, প্রেসিং ও আক্রমণের বৈচিত্র্য। তাতে মার্সেইয়ের রক্ষণকে বেশ তটস্থ থাকতে হতে পারে।

কাগজে-কলমে বায়ার্ন স্পষ্ট ফেভারিট। হ্যারি কেনকে সামনে রেখে জার্মান জায়ান্টদের আক্রমণ যে কোনো রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম। ইউনিয়ন সেইন্ট বায়ার্নের সামনে উড়ে যাবে ধরে নেওয়া যায়। বায়ার্নের আক্রমণ ও স্কোয়াড ডেপথ বিশাল, তবে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা থাকে। ইউনিয়নের শক্তি সংগঠিত ডিফেন্স, দুর্বলতা অভিজ্ঞতার অভাব। ফলে, অভিজ্ঞতার ঝলকানি দেখিয়ে বায়ার্ন গোলবন্যা বইয়ে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আজকের ধাপ শেষে এবারের আসরে অনেক দলের ভবিষ্যৎ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। বড় ক্লাবগুলোর জন্য এটি আধিপত্য দেখানোর মঞ্চ, আর অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর জন্য ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের জানান দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। এবার দেখা যাক কারা নিজেদের জানান দিয়ে আলোর দেখা পায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন