এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রায় আট বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পর্যায়ের সফরে জাপানে গেছে উত্তর কোরিয়া।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী ও দেশটির অলিম্পিক কমিটির প্রধান কিম ইল গুকের নেতৃত্বে ১৮০ সদস্যের প্রতিনিধিদল জাপানে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানায় জাপানে বসবাসরত উত্তর কোরিয়াপন্থী কোরীয় বাসিন্দাদের সংগঠন চোংরিওনের সদস্যরা।
খেলোয়াড়, কোচ কিংবা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত দুজন দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবর্তে জাপানে আশ্রয় নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং দেশে ফিরতে না চাওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জাপানের ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি সত্যিকারের দলত্যাগে গড়াবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জাপান সরকারের এক কর্মকর্তা কিম ইল গুকের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা করলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে সরে যান, এমনটাই জানিয়েছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা কিয়োদো।
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, জাপানি নাগরিক অপহরণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস নিয়ে জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাধারণত উত্তর কোরীয় নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে জাপান মাঝেমধ্যে ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৩ সালেও একজন উত্তর কোরীয় সেনা জাহাজে লুকিয়ে জাপানে পালিয়ে আসেন এবং পরে ১৯৮৮ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় পান।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ঘন ঘন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জাপানি নাগরিক অপহরণ ঘটনা এবং কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসকে ঘিরে উত্তর কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে গেমসে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনায় ঘটেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার হকি ম্যাচের আগে ভুলবশত উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হলে দক্ষিণ কোরিয়া আয়োজক কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

