চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোপা লিগের পর উয়েফা কনফারেন্স লিগ। প্রথম ক্লাব হিসেবে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মর্যাদাকর আসরের তিনটি মেজর শিরোপাই নিজেদের শোকেসে তোলে নতুন ইতিহাস লিখেছে চেলসি। ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি উয়েফা কাপ উইনার্স কাপও জিতেছে দুবার। যদিও ২৫ বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে এই টুর্নামেন্ট। উয়েফা সুপার কাপ জয়ের স্বাদও তারা পেয়েছে দুবার। ইউরোপের এই পাঁচটি টুর্নামেন্টের সবকটিতে সেরা হওয়ার রেকর্ডও গড়েছে তারা।
ইউরোপের পাঁচ শিরোপার সবকটি জয়ের অনন্য কৃতিত্ব গড়ে কোচ এনজো মারেস্কা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত, ‘আমি প্রচণ্ড খুশি। প্রথমার্ধে খানিকটা হতাশ ছিলাম। কারণ আমরা ভুল স্টাইলে খেলছিলাম। বিরতির পর আমরা ভালো খেলেছি।’ ক্লাবের অনুরাগীদের উল্লসিত করতে পেরে দারুণ খুশি রক্ষণভাগের ফুটবলার লেভি কলউইল, ‘সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতা প্রথম ক্লাব হতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। দেখতেই পাচ্ছেন, সমর্থকরা কীভাবে উদযাপন করছে। এতেই বিষয়টি স্পষ্ট, এমন কিছু তারা কতটা মনে-প্রাণে চেয়েছিল।’
স্নায়ুচাপ সামাল দিয়ে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে চেলসি। কলউইল সেই রণকৌশলটা জানিয়ে বলেন, ‘জানতাম, বেতিস ভালো দল। তারা আমাদের পরীক্ষায় ফেলবে। বিশেষ করে, লড়াইয়ের শুরুতে গ্যালারির দর্শকরা ওদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিল। তবে জানতাম একটা সময় এটা উবে যাবে। আমাদের শুধু ধৈর্য ধারণ করে খেলতে হতো এবং মুহূর্তের ব্যবধানে পাওয়া সুযোগগুলো থেকে ফায়দা লুটতে হতো। করণীয় এই কাজই আমরা করে গেছি বিরতির পর।’
চ্যাম্পিয়ন হয়ে উৎসবের জোয়ারে ভাসলেও চেলসি ভালো করেই জানে কনফারেন্স লিগ আসলে তাদের জন্য সঠিক ঠিকানা নয়। প্রিমিয়ার লিগের বিদায়ি মৌসুমে চতুর্থ সেরা দল হয়ে তাই চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট কেটে রেখেছে চেলসি। ক্যাপ্টেন রিস জেমসও তাই ইউরোপের সেরাদের টুর্নামেন্টের আগামী আসরের দিকে তাকিয়ে, ‘শিরোপা জয়ের অনুভূতি সব সময়ই দুর্দান্ত। ম্যাচের বয়স যত বেড়েছে, আমরা তত ঘুরে দাঁড়িয়ে চমৎকার খেলেছি এবং সৌভাগ্য বলতে হয় যে, দ্বিতীয়ার্ধে চারটি গোল আমরা পেয়েছি। এই টুর্নামেন্টে খেলেছি, এটি জেতা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল। পরের মৌসুমে আমরা ফের চ্যাম্পিয়নস লিগে দাপিয়ে বেড়াব নতুন টার্গেটকে সামনে রেখে।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা দুবার ঘরে তুলেছে চেলসি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সেরা আসরের সঙ্গে মহাদেশীয় ক্লাব আসরের দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্ট ইউরোপা লিগের শ্রেষ্ঠত্বেরও দেখা পেয়েছে তারা দুবার। এবার ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের তৃতীয় সারির আসর উয়েফা কনফারেন্স লিগের সিংহাসনও দখলে নিল দ্য ব্লুজ শিবির। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে গত বুধবার রাতে রিয়াল বেটিসকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের মুকুট নিজেদের করে নিয়েছে চেলসি।
পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য অবশ্য পরিষ্কার নয় স্কোরলাইনে। যে কেউ ম্যাচের ফল দেখে ভাবতেই পারেন, ম্যাচটি ছিল একপেশে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ছিল ভিন্ন কিছু। লড়াইয়ের নবম মিনিটেই ম্যাচের ডেডলক ভেঙে ফেলেছিল রিয়াল বেটিস। দুদলের লড়াইয়ের ব্যবধানটা তারা অটুট রেখেছিল ৬৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে স্কোর ১-১ করে ফেলে চেলসি। পাঁচ মিনিট বাদে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এবার লিড নেয় নিকোলাস জনসনের গোলে। লড়াইয়ের ৮৩ মিনিটে ব্যবধান আরো এক ধাপ বাড়িয়ে নেন জেডন স্যানচো। ইনজুরি টাইমে মোইসেস কাইসেদো জালে বল জড়িয়ে চেলসির জয়ে এঁকে দেন সিলমোহর।
জালে বল জড়াতে পারেননি, তবুও চেলসির জয়ের নায়ক কোল পালমার। বদল দখল, ড্রিবলিং আর আক্রমণ মিলিয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন তরুণ এ প্লেমেকার। বিরতির পর প্রতিপক্ষ রিয়াল বেটিসকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন। নিজে গোল না করলেও দলের প্রথম দুটি গোলে অবদান রেখেছেন পালমার। অসাধারণ নৈপুণ্যে ২৩ বছরের এ তারকা খেলোয়াড় ছিনিয়ে নিয়েছেন ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

