এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও নিখুঁত দলের নাম ফ্রান্স। শুধু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শো করছে না দলটি, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে শাসন করছেন ফরাসিরা। যে ধারার ফুটবল খেলছে তারা, এই দুর্বার গতির ফ্রান্সকে আটকানোর সাধ্য আছে কার? গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য আর নকআউটে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়ে দেওয়ার পর ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়েছে। এবার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে তাদের সামনে প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ‘বুলেট’ গতির ফ্রান্সকে কী থামাতে পারবে প্যারাগুইয়ানরা? সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
এবার আরো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। গতিময় গোছানো ফুটবল আর বিধ্বংসী আক্রমণ ভাগই অন্য দলের চেয়ে নিজেদের আলাদা করে রাখছে দলটি। তাদের দলে চোখে পড়ার মতো অনেক কিছুই আছে। ঐক্যতা, শৃঙ্খলা, বোঝাপড়া, স্পিরিট—সব মিলে দলটি অনন্য। গত আসরের চেয়েও উচ্চগতির ফুটবল খেলছে ফ্রান্স। দলটির প্রাণ এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বড় মঞ্চের তারকা বনেছেন ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়। এবার আরো পরিপক্ব হয়ে এসেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক ম্যাচে গোল উপহার দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল তারও। এতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ জোড়ালোভাবেই আছেন এই ফরাসি তারকা। তার সামনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল পেলেই চলমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাবেন এমবাপ্পে। আর দুটি গোল পেলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে নাম লেখাবেন তিনি। এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, বার্কেলোরাও মাঠে যে নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাদের আটকানো অনেক কঠিন কাজ হবে। ফ্রান্স ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা মুখোমুখি হতে হবে প্যারাগুয়েকে। বিশেষ করে তাদের জন্য ফরাসি আক্রমণভাগকে সামলানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের হবে। অবশ্য সাবেক চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে শেষ বত্রিশের ম্যাচে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় এসেছে প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগের সক্ষমতা দেখা গেছে। বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশলই অবলম্বন করবে প্যারাগুয়ে।
নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করছেন না ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। প্যারাগুয়ের ম্যাচটি খুবই মনোযোগ দিয়েছে দেখেছেন এই কোচ। প্যারাগুয়ে যোগ্যতা প্রদর্শন করেই জিতেছে। ফলে তাদের বিপক্ষে ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। দেশমের মতে, প্যারাগুয়ে সাউথ আমেরিকান টিম। খুবই শক্তিশালী তারা। তাদের দলে বেশকিছু উচ্চমানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। শক্তি দেখিয়েই শেষ ষোলোয় ম্যাচ খেলছে প্যারাগুয়ে। তাই এই দলটির বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ সহজ হবে না। অন্যদিকে, অতীতের হিসাব-নিকাশও চুকিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে এই ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল তারা। সেবার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২৮ বছর পর আবার একই মঞ্চে মুখোমুখি দুদল। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে কোচ গুস্তাভো আলফারোর দল। আর সেটি তারা পারবে কি না—সময়ই বলে দেবে। এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফরাসিদের বিপক্ষে জেতার কোনো রেকর্ড না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি না প্যারাগুয়ে, সেটিই দেখা যাবে মাঠের লড়াইয়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

