হারতে বসার শঙ্কা থেকে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের শেষ আটের টিকিট। ম্যাচে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্টের সৌজন্যে আরো বেশকিছু রেকর্ডে নিজের নাম লিখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একনজরে দেখে নেওয়া যাক শেষ ষোলোর এই ঐতিহাসিক ম্যাচের অবিশ্বাস্য সব পরিসংখ্যান ও রেকর্ড বুক-
১
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পর এবার রাউন্ড অব ৩২ ও শেষ ষোলোতেও জালের দেখা পেলেন।
৬
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন মেসি। এর আগে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি ছিল জ্যঁ ফন্তেইন (১৯৫৮), জাইরজিনহো (১৯৭০), গার্ড মুলার (১৯৭০), রিভালদো (২০০২) এবং হামেস রদ্রিগেসের (২০১৪)।
১
ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে আট পেনাল্টির চারটি মিস করেছেন মেসি।
৩
আর্জেন্টিনার প্রথম গোলে অ্যাসিস্টের পর দ্বিতীয় গোলটি নিজেই করেন মেসি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে নকআউট পর্বে অন্তত একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করা মেসির এটি তৃতীয় ম্যাচ, যা তার অভিষেকের পর থেকে একটি রেকর্ড। সমসাময়িক খেলোয়াড়দের মধ্যে টমাস মুলার দুটি নকআউট ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
৭
বিশ্বকাপের নকআউটে এটি মেসির সপ্তম গোল। ব্রাজিলের পেলে, ভাভা ও চেক প্রজাতন্ত্রের ওল্ডরিচ নেজেডলির সঙ্গে যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
৮
সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন আটটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। এটি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর আগে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে গুইলের্মো স্তাবিলও করেছিলেন আট গোল।
৯
বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট এখন ৯টি। রেকর্ড পরিসংখ্যান সংরক্ষণের পর থেকে এটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড, যেখানে তিনি স্বদেশি কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
৯
এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন মেসি, যা বিশ্বকাপে একটি রেকর্ড। অন্য কোনো দলের টানা ছয় ম্যাচের বেশি গোলের রেকর্ড নেই।
১৪
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির গোলের অবদান এখন ১৪টি (নিজে সাত গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন সাতটি)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ। এতদিন নকআউটে ১২টি গোলে অবদান রেখে এমবাপ্পের পাশে ছিলেন মেসি, এবার ফরাসি তারকাকে ছাড়িয়ে গেলেন।
১
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও প্রথম দল হিসেবে ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা। মূলত দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম জয়।
৫
মাত্র দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতল আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এমন কীর্তি গড়েছিল তারা। সেবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
৮
ম্যাচের ৭৬ মিনিটের পর চলতি বিশ্বকাপে আটটি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এর আগে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানিও ৭৬ মিনিটের পর করেছিল আট গোল।
১১
বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচ ধরে অপরাজিত আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের শেষ ছয় ম্যাচের পর এবার পাঁচ ম্যাচে হারেনি তারা। ফিফা বিশ্বকাপে এটিই তাদের টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
১১
বিশ্বকাপে এই নিয়ে টানা ১১ ম্যাচে একাধিক গোল করল আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত সময়ে উরুগুয়েও টানা ১১ ম্যাচে করেছিল একাধিক গোল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

