আয়োজক ভারতে পা রাখবে না পাকিস্তান দল, এর আগে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধের পর শঙ্কা জেগেছিল এশিয়া কাপ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে মাঠে গড়াবে এশিয়া কাপের ১৭তম আসর। তবে টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই খানিকটা বিতর্ক তৈরি করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। টানা তৃতীয়বারের মতো আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে একই গ্রুপে রেখে তৈরি করেছে ‘গ্রুপ অব ডেথ’। অন্যদিকে সম্প্রচারকারী ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক ভারত-পাকিস্তানকে রাখা হয়েছে একই গ্রুপে। তাতে বিশ্ব ক্রিকেট অন্ততপক্ষে দুবার দেখতে পারবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই। ব্যবসায়িক সাফল্য ও বিতর্ককে সঙ্গী করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে এসিসি।
এশিয়া কাপের এবারের আসর আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। একসময় এশিয়া কাপ মানেই ওয়ানডে ক্রিকেট হলেও এখন সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছে এসিসি। আগামী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মূলত এবার এশিয়া কাপ আয়োজন করা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। সদস্য দেশগুলোর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যই মূলত এমন সিদ্ধান্ত। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় নিয়ে আছে খানিকটা বিতর্ক। কারণ, মাস ছয়েক পর হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি-মার্চে। সেখানে এশিয়া কাপ আয়োজন করা হচ্ছে সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র গরমের মধ্যে।
তবে এর দায় যতটা না এসিসির, তার চেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে পাক-ভারত দ্বন্দ্ব। দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে একপাশে সরিয়ে যদি এশিয়া কাপ ভারতের মাটিতে আয়োজন করা হতো- তাহলে হয়তো এত বিপত্তির মুখে পড়তে হতো না অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে। যতই দ্বন্দ্ব থাকুক দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট ঘিরে। মরুর দেশে প্রায় সব দেশের সমর্থকদের দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে পাক-ভারত ম্যাচ। এই ম্যাচের টিকিটের দামও আকাশচুম্বী।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনেক আগ্রহ থাকলেও ট্রফি জয়ের আলোচনায় আছে আফগানিস্তান। সারা বছর আরব আমিরাতের মাটিতে অনুশীলন করা আফগানরা ভালো জানেন কন্ডিশন সম্পর্কে। এমনকি তারা সাম্প্রতিক সময়ে আছে দারুণ ছন্দে। যদিও আরব আমিরাত-পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ব্যাটিং ধসে হারতে হয় তাদের। তবে কন্ডিশন বিবেচনায় এগিয়ে থাকায় আফগানদের বেশ সমীহ করছে সব দলই। অন্যদিকে, বাংলাদেশও আছে দারুণ ছন্দে। টানা তিন সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এশিয়া কাপে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স হওয়ার দৌড়ে আফগানদের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও।
সব সময়ই এশিয়া কাপের হট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগের ১৬ আসরে এই তিন দল ছাড়া অবশ্য কেউই জিততে পারেনি এশিয়া কাপের ট্রফি। সে কারণেই মূলত তারাই থাকেন এশিয়া কাপের হট ফেভারিট হবে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাকিস্তান এশিয়া কাপ শুরু করবে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্মৃতি নিয়ে। স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তানকে নিয়ে হওয়া এই ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাট-বলে দারুণ পারফর্ম করেছে দলটি। সে কারণে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর বিরতিতে থাকা ভারতীয় দল অবশ্য মাঠে নামবে অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে। তরুণ-অভিজ্ঞদের মধ্যে থাকা কম্বিনেশনের কারণে খেলার মাঠে এগিয়ে থাকবে ভারত।
এশিয়া কাপের আগে হট ফেভারিটদের মধ্যে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও, কন্ডিশনের কারণে খানিকটা পিছিয়ে থাকবে লঙ্কানরা। এছাড়া তাদের প্রস্তুতিটা হয়েছে শক্তি-সামর্থ্যে খানিকটা পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হেরেছে লঙ্কানরা। অন্যদিকে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংরাও প্রস্তুতি পিছিয়ে নেই। নামের ভারের পিছিয়ে থাকলেও তারাও যে কোনো সময় অঘটনের জন্ম দিতে পারে। টি-টোয়েন্টি খেলায় ছোট-বড় দলের ভিন্নতা নেই বলেই সব দলকেই এক চোখে দেখে মাঠে সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকবে।
একটি ট্রফিকে ঘিরে দলগুলোর এই দারুণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকবে এখন সবাই। শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে উঠবে শিরোপা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

