আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমিনুল এখন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক

জাতীয় দলের অধিনায়ক থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতীয় দলের অধিনায়ক থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্রীড়াবিদদের মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। সেই বিরল তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাফজয়ী ফুটবলার ও অধিনায়ক আমিনুল হক। গতকাল তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এবং আরিফ খান জয়ের পর তৃতীয় ফুটবলার ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান করে নেন আমিনুল হক।

বিজ্ঞাপন

১৯৯২ সাল থেকে ২০১৩-প্রায় দুই দশকের ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে নাম লেখান আমিনুল হক। ২০১৪ সালে রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা গোলরক্ষক। সেরা গোলরক্ষক কিংবা অধিনায়ক-বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্যটাই এসেছে তার হাত ধরে। ২০০৩ সালে সাফ শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ছিলেন আমিনুল।

খেলোয়াড়ি জীবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঢাকা মোহামেডান, ফরাশগঞ্জ ও শেখ জামালের মতো দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমিনুল হক। এছাড়া ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ৫০ ম্যাচ। এ সময় গোলপোস্টের নিচে জাতীয় দলের অতন্দ্র প্রহরী হয়েছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফজয়ী দলের কোচ জর্জ কোটান একবার বলেছিলেন, ইউরোপে খেলার যোগ্যতা রাখেন আমিনুল হক। এছাড়া একবার সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল থেকেও খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরের কোনো লিগে তার খেলা হয়নি। এ নিয়ে অবশ্য কখনো কোনো আক্ষেপ প্রকাশ করতে শোনা যায়নি তাকে।

দারুণ ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে অন্যদের মতো উপভোগের জীবন কাটানোর সুযোগ ছিল আমিনুলের সামনে। কোচিং কিংবা অন্যকিছু করে বাকিটা সময় কাটাতে পারতেন। তবে আমিনুল সেই পথ বেছে না নিয়ে শুরু করেন রাজনীতি।

তিনি যখন রাজনীতিতে নাম লেখান, তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল ছাত্র আন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতাসীন দল নয়, আমিনুল নাম লেখান বিরোধী পক্ষে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি)। ফলে রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন আমিনুল হক। একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। তবুও থেমে যাননি তিনি। চালিয়ে গেছেন রাজনীতি। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে লড়েছেন বুক পেতে।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে সরব ছিলেন আমিনুল হক। বিভিন্ন সাজানো মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। তার মতো একজন ক্রীড়াবিদ দেশকে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দেওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন-সেটা শুরুর দিকে একদম অকল্পনীয় ছিল। তবুও তাকে বারবার হামলা-মামলার শিকার হয়ে কারাবরণ করতে হয়েছে।

কঠিন সময়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আমিনুল হকের ওপর ভরসা রেখেছিল তার দলও। ফলে দ্রুতই বিএনপির বড় ভরসার নাম হয়ে ওঠেন তিনি। দায়িত্ব পান বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদকের। এছাড়া বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের ভূমিকাও পালন করছেন। পরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা ছাড়াই রাজনীতি করতে পেরেছেন আমিনুল হক। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করেন।

সংসদ নির্বাচনে জিততে না পারলেও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ওপর রেখেছেন ভরসা। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির চিন্তাভাবনা এবং কর্মপরিকল্পনা কি হতে পারে, সেই বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বেশকিছু প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন অমিনুল হক। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সেই প্রস্তাবনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নাড়িনক্ষত্র প্রায় সবকিছুই সম্পর্কে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা আছে আমিনুল হকের। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের কাজে লাগাতেই বিএনপি সরকার তাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে।

খেলোয়াড়ি জীবনে যেভাবে বদলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবল, ঠিক তেমনি এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বদলে দেবেন-সেটাই সবার প্রত্যাশা। খেলোয়াড়ি জীবনে মাঠে পারফর্ম করা আমিনুলের ওপর এখন তুমুল প্রত্যাশার চাপ। তখন শুধু ফুটবল মাঠে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সাফল্য এনে দিয়েছেন। এখন আমিনুল হক বাংলাদেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। এই ‘ম্যাচও’ জিতে আসুন ক্রীড়াঙ্গনের নতুন অভিভাবক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন