১০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণ থাইল্যান্ডের

১০০ মিটার স্প্রিন্টের 
স্বর্ণ থাইল্যান্ডের

একেই বলে উন্নতি!

তিন বছর আগের গেমসে রৌপ্যপদক। আর এবার গলায় ঝুলল তার স্বর্ণপদক। এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের রাজা হলেন থাইল্যান্ডের পুরিপল বুনসন। থাইল্যান্ডের এই অ্যাথলেট যে এই ইভেন্ট কিছু একটা করতে চলেছেন সেই প্রমাণটা তিনি রেখেছিলেন রেসের হিটেই। হিটে প্রথম। সেমিফাইনালেও তাই। গেমস রেকর্ড গড়ে সেমিফাইনালে প্রথম হন। ঘণ্টা দুয়েক পরে সেই একই ট্র্যাকে ফাইনালে নিজের গেমসের রেকর্ডকে আরো সংক্ষিপ্ত করে নিজের করে নিলেন। ফাইনালে মাত্র ৯.৯০ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন পার করেছেন এই থাই অ্যাথলেট। জিতে নিয়েছেন স্বর্ণপদক। সেমিফাইনালে তার টাইমিং ছিল ৯.৯১ সেকেন্ড। স্টার্টিং থেকে মাঝে, সেখান থেকে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত পুরোটা রেসে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন পুরিপল। ইভেন্টে রৌপ্য পদক জিতেছেন ওমানের আলী আল বালুসি। তার টাইমিং ১০.০৪ সেকেন্ড। ব্রোঞ্জ জিতেছেন তারই স্বদেশি মালহাম আল বালুসি। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.১১।

বিজ্ঞাপন

ব্রোঞ্জজয়ী মালহাম আল বালুসির টাইমিং দেখে বাংলাদেশি স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান দুঃখ করতেই পারেন। ১০০ মিটার দৌড়ে ইমরানুরের ক্যারিয়ার সেরা রেকর্ডের টাইমিং ১০.১১ সেকেন্ড! ১০০ মিটারের সেমিফাইনালে ছিলেন ইমরানুর। তবে সেই লড়াইয়ে ভালো কিছু করতে পারেননি তিনি। আটজনের মধ্যে সপ্তম হয়ে রেস শেষ করেন ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে।

১০০ মিটারে রেসের মজাটাই একটু অন্যরকম। বিকাল থেকেই নাগোয়ার মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে দর্শকরা এসে ভিড় করছিলেন। লম্বা লাইনে সারিবদ্ধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। প্রেস গ্যালারির লাইনে থাকা গ্যালারিতেই বেশি ভিড়। কারণ এখান থেকে এই রেস সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। তবে অন্যান্য গেমসে যেমন এই ইভেন্টে দর্শক আসনে তিল ধরানোর ঠাঁই থাকে না, এমন কিছু ছিল না শুক্রবার রাতের এই রেসে। স্টেডিয়ামের প্রচুর আসন খালি পড়ে আছে।

রেসের লড়াইটা মাত্র ১০ সেকেন্ডের। কিন্তু সেই বিদ্যুৎগতি দেখতেই দর্শক এসে বসে থাকেন কয়েক ঘণ্টা ধরে! ফটোসাংবাদিকদের লেন্সে এই ১০ সেকেন্ডের মধ্যে জমা হয় কত আনন্দ-বেদনা, হতাশা এবং রেকর্ডের গল্প!

নাগোয়ার মিজুহো স্টেডিয়াম শুক্রবার রাতের সেই গল্পে নায়ক হয়ে রইলেন থাইল্যান্ডের ২০ বছর বয়সি অ্যাথলেট পুরিপল। আর একবুক কষ্ট নিয়ে রেস শেষে ট্র্যাক থেকে সোজা হাসপাতালে গেলেন মালয়েশিয়ার অ্যাথলেট মুহম্মদ আজিম ফাহমি। পায়ের মাসলে টান পড়ায় রেসের শেষদিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ফিনিশিং লাইন পার করেন তিনি। আটজনের মধ্যে অষ্টম হন তিনি। অথচ তিন বছর আগের হানঝুতে এশিয়ান গেমসে মালয়েশিয়ার এই অ্যাথলেট ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

এবার তাকিয়ে দেখলেন বাকিদের আনন্দ! ১০০ মিটার রেস আসলে জীবনেরই অল্পস্বল্প গল্প!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন