যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে এশিয়ার মঞ্চে

দুই সিরীয় তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

দুই সিরীয় তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

যুদ্ধের বিভীষিকা সব কেড়ে নিলেও মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাকে যে দমিয়ে রাখা যায় না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছেন সিরিয়ার দুই তরুণ তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশ ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন শুরু করা মাহমুদ জাসেম মুহাম্মদ এবং তালা হাসান হুনাইদি এবার অংশ নিতে যাচ্ছেন নাগয়ায় এশিয়ান গেমসে।

অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো শরণার্থী দল এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে। মাহমুদ এবং তালা সিরিয়ার পতাকার বদলে এই শরণার্থী দলের প্রতিনিধি হিসেবেই গেমসে লড়বেন। জর্ডানের আজরাক শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবন পেছনে ফেলে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে তাদের এই পদার্পণ লাখো মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।

বিজ্ঞাপন

২৪ বছর বয়সি মাহমুদ জাসেম মুহাম্মদ পুরুষদের ৮০ কেজি কিওরুগি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নিজেদের এই যাত্রার কথা তুলে ধরে আত্মবিশ্বাসী মাহমুদ বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়িনি। যুদ্ধের দাবানল আর চরম দুরবস্থা আমাদের বাধ্য করেছিল নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজতে। তবে গেমসে আসাটা কেবল আরেকটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নয়, আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি একটি গল্প, যা ইনশাআল্লাহ্ একদিন সফলতার গল্প হয়ে উঠবে।’ তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন যে, তারা কেবল সংখ্যা বাড়াতে আসেননি, বরং গেমসের মঞ্চ থেকে কিছু অর্জন করে ফেরার জন্যই কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসের মতো এত বড় আসরে জায়গা পেয়ে তালা হাসান হুনাইদি অলিম্পিক কমিটি, ওসিএ এবং ওয়ার্ল্ড তাইকোয়ান্দোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। খেলাধুলা কীভাবে তাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তালা বলেন, ‘খেলাধুলা আমাকে আমূল বদলে দিয়েছে। আমি এখন একজন অন্য মানুষ, যে নতুন করে স্বপ্ন দেখে এবং যার সামনে ভবিষ্যৎ গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। স্পোর্টস আমাদের জীবনের অন্য এক অন্ধকার পার থেকে আলোর জগতে নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, তারা শিখেছেন যেকোনো কিছুই অসম্ভব নয় এবং কষ্টকে জয় করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এই দুই তরুণ অ্যাথলেটের প্রশংসা করে ওসিএ অ্যাথলেটস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শিবা কেশাভান জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের মূল স্রোতে তাদের যুক্ত করাটা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি তাদের দুজনকে লাখো মানুষের জন্য ‘অনুকরণীয় রোল মডেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কোনো রকম মানসিক চাপ না নিয়ে খেলাটিকে উপভোগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের মতো আসর শুধু প্রতিযোগিতার নয়, মানবিক বন্ধন তৈরিরও এক অনন্য সুযোগ।’

মাহমুদ এবং তালার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, মানবতা এবং খেলাধুলা সব সীমানা ছাড়িয়ে মানুষকে নতুন করে বাঁচার আশা জাগাতে পারে। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে তাদের সাফল্য এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন