৫৭ রানেই নেই তিন উইকেট। ইংল্যান্ডের সামনে তখন উঁকি দিচ্ছিল প্রথম তিন টেস্টের স্মৃতি। তবে সেটা হতে দিলেন না জো রুট ও হ্যারি ব্রুক। দুজনের জুটিতে ভর করে দিন পার করে দিল ইংল্যান্ড। সিডনিতে অ্যাশেজের শেষ টেস্টের বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিন নিজেদের করে নিল ইংলিশরা। গতকাল বৃষ্টি ও আলোর স্বল্পতায় ৪৫ ওভারের দিনে রুট ও ব্রুকের অপরাজিত ফিফটিতে ইংল্যান্ড দিন শেষ করেছে তিন উইকেটে ২১১ রান নিয়ে। ব্রুক অপরাজিত ৭৮ রানে, রুট ব্যাট করছেন ৭২ রানে।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড ভালোই শুরু করেছিল। দুই ওপেনার জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট গড়েন ৩৫ রানের জুটি। বরাবরের মতো আক্রমণাত্মক ছিলেন ডাকেট। মিচেল স্টার্কের ওপর বেশ চড়াও হয়েছিলেন। তবে জারিজুরি বেশিক্ষণ টিকল না। স্টার্কের বলেই ২৪ বলে ২৭ রান করে ফিরে যান তিনি। সিরিজে এ নিয়ে পঞ্চমবার ডাকেটকে আউট করেন স্টার্ক।
এরপর আঘাত হানেন মাইকেল নেসের। ব্যক্তিগত ১৬ রান করে এলবিডব্লু হন ক্রলি। দ্রুত দুই উইকেটের পতন দেখে তিনে নামা বেথেল ছিলেন সাবধানী। সেটা এমনই যে, তার প্রথম রান আসে ১৫তম বলে! তবে দেখেশুনে খেলার মনোস্থির করলেও তাকে থিতু হতে দেননি স্কট বোল্যান্ড। ১০ রান করে স্কট বোল্যান্ডের বলে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে। তাতে ১৩ ওভারেই তিন উইকেট ‘নাই’ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু রুট ও ক্রলির।
দুজনই দেখেশুনে মেরে খেলতে থাকেন। উইকেট-ধ্যানি হয়ে ব্যাট করেন রুট ও ক্রলি। রুট ৬৭তম টেস্ট ফিফটিতে পৌঁছে যায় অনায়াসে। এই ফিফটিতে শচিনকে ছোঁয়ার আরো কাছে পৌঁছে গেলেন ইংলিশ তারকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পেলেই ছুঁয়ে ফেলবেন শচিনকে (৬৮টি)। রুটের চার বল পরই নিজের ১৫তম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন ব্রুক। দুজনে গড়েছেন ১৫৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি, যা এই সিরিজে দুদল মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপর নামে বৃষ্টি, সে সঙ্গে বজ্রপাতও। তাতে চা-বিরতি নেওয়া হয় আগেভাগেই। বৈরী আবহাওয়ায় আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৪৫ ওভারে ২১১/৩ (হ্যারি ব্রুক ৭৮*, জো রুট ৭২*; মাইকেল নেসার ১/৩৬)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

