আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাংলাদেশ জিতল, পাকিস্তান শুধু দাঁড়িয়ে দেখল!

এম. এম. কায়সার

বাংলাদেশ জিতল, পাকিস্তান শুধু দাঁড়িয়ে দেখল!

বাংলাদেশ খেলল, জিতল। পাকিস্তান দেখল, শিখল!

এই ম্যাচের ফলাফলের জায়গায় এমনটাই লেখা থাকা উচিত। গোটা ম্যাচে পাকিস্তান যা করল তাকে বলে শিক্ষানবিশ ব্যাটিং। ৩০.৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট সফরকারীরা। শেষের জুটিতে যোগ হওয়া ৩২ রানের কল্যাণে পাকিস্তানের স্কোর কোনোমতে তিন অঙ্কের ঘর টপকালো। অনায়াসে সেই টার্গেট বাংলাদেশ টপকে গেল হেসে-খেলে, বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট দেখিয়ে। ৮ উইকেটে জয়ী ম্যাচে বাংলাদেশ জিতল মাত্র ১৫.১ ওভারে। ১০০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচটি শেষ হলো সবমিলিয়ে মাত্র ৪৬ ওভারে!

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের ইনিংস ১১৪ রানে থামতেই এই ম্যাচের আলোচনা কেবল একটাই- ইফতারের আগে কি ম্যাচ শেষ হবে? ওপেনার তানজিদ তামিমের ৪২ বলে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস সেই আলোচনারও ইতি টানে। ইফতারে ব্রেকের আর প্রয়োজন পড়েনি এই ম্যাচে। ম্যাচটি জিতেই ইফতার করতে গেল উভয় দল। নো কম্পিটিশনের ম্যাচটি জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০ তে।

টস জয় থেকে ম্যাচ জয়- এই ম্যাচের সবকিছুই জিতল বাংলাদেশ। ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে ব্যাটিংয়ে সিরিজ জেতা পাকিস্তান মিরপুরে এমন নতজানু কায়দায় গুটিয়ে পড়ল কেন? মিরপুরের উইকেট কি বিস্ফোরক ছিল, নাকি পাকিস্তানের ব্যাটিংটাই ছিল খারাপ?

শেষের উত্তরটা সঠিক। প্রথম এবং শেষের জুটির ব্যাটিং বাদ দিলে এই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল বিধ্বস্ত, বিষণ্ণ, বিপন্ন। ওপেনিং জুটিতে ৪১ রান তোলা একটি দল কেন মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যাবে? তাও আবার মাত্র ৩১ ওভারের মধ্যেই? কেন দলের কোনো ব্যাটসম্যান রুখে দাঁড়াতে পারল না? দলের কাছে এমন অনেক প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাচ্ছেন এখন পাকিস্তান কোচ মাইক হেসেন।

মিরপুরের উইকেটে শুরুতে দেখেশুনেই ব্যাট করছিল পাকিস্তান। উইকেটে কিছুটা মুভমেন্ট ছিল। বাড়তি সুইংও পাচ্ছিলেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। কিন্তু তারা পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিকে তেমন সমস্যায় ফেলতে পারেননি। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে সমস্যার শুরু হলো নাহিদ রানা আক্রমণে আসতেই। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে বোলিংয়ে আনেন তাকে অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ। সেই ওভারের শেষ বলে ফারহানকে ফিরিয়ে দিয়ে নাহিদ রানার উইকেট শিকারের উৎসব শুরু।

সেই শুরু। তারপর টানা পরের আরো চার ওভারে আরো চার উইকেট! নিজের প্রতি ওভারেই উইকেট পাচ্ছিলেন রানা। তার বাউন্স, সুইং, মুভমেন্ট এবং গতির ঝড়ে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। দেখে মনে হচ্ছিল প্রতি বলেই এই বুঝি উইকেট পাচ্ছেন তিনি! বোলিং স্ট্রাইকে নাহিদ রানাকে দেখে গোটা পাকিস্তান দল যেন নার্ভাস হয়ে পড়ে। পুরোটা সময়জুড়ে নাহিদ রানা যে বোলিং করলেন, তার কোনো উত্তরই খুঁজে পায়নি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।

ওপেনিংয়ে ৪১ এবং শেষ জুটিতে ৩২ রান তোলা ছাড়া এই ম্যাচে পাকিস্তানের বাকি ব্যাটিং শুধু বেহাল আর বিধ্বস্ত। ব্যাটিংয়ের বাকি আট জুটির সবগুলোই সিঙ্গেল ডিজিটে শেষ! একটানা ৭ ওভার বোলিং করে গেলেন রানা। বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ালো ৭-০-২৪-৫। অন্যপ্রান্ত থেকে অধিনায়ক মেহেদি মিরাজও টপাটপ তিন উইকেট তুলে নিলেন। নিজেদের দ্বিতীয় স্পেলে তাসকিন ও মোস্তাফিজও উইকেট শিকারের আনন্দে যোগ দিলেন। তাতেই পাকিস্তানের ইনিংস ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে শেষ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এটাই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। একাদশে চারজন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে নামা পাকিস্তানের এক্সপেরিমেন্ট এই ম্যাচে মাঠে মারা গেল।

মামুলি এই রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ শুরুতে ওপেনার সাঈফ হাসানের উইকেট হারায়। তবে সেই ধাক্কা দলের গায়ে লাগতে দেননি ফর্মে থাকা ওপেনার তানজিদ তামিম। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ রান যোগ করে বাংলাদেশের বড় জয় নিশ্চিত করেন। দুজনের ঝটপট গতির ব্যাটিংয়ে এই ম্যাচে ইফতার ব্রেকের আর প্রয়োজন পড়েনি। সিরিজ জয় থেকে এক ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পরের দু’ম্যাচের একটিতে জিতলেই এই সিরিজের বিজয়ী অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দাপুটে ভঙ্গিতে জিতল বাংলাদেশ, তাতে এই স্বপ্নকে খুব দূরের কিছু মনে হচ্ছে না।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

পাকিস্তান : ১১৪/১০ (৩০.৪ ওভারে, ফারহান ২৭, সাদাকাত ১৮, ফাহিম ৩৭, নাহিদ রানা ৫/২৪, মেহেদি মিরাজ ৩/২৯)।

বাংলাদেশ : ১১৫/২ (১৫.১ ওভারে, তানজিদ ৬৭*, শান্ত ২৭, অতিরিক্ত ১৪)।

ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে।

ম্যাচসেরা : নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ম্যাচ : ১৩ মার্চ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন