ইরানের অফসাইড দুঃখ!

স্পোর্টস ডেস্ক

ইরানের অফসাইড দুঃখ!

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা ছুঁতে পারল না ইরান। মিশরের বিপক্ষে ‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলের উল্লাসে মেতেছিল পুরো দল। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হয় হতাশায়। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের সংকেত দেওয়ায় বাতিল হয়ে যায় গোলটি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে।

ওয়াশিংটনের লুমেন ফিল্ডে ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা তৃতীয় মিনিটে আসে সেই নাটকীয় মুহূর্ত। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল মিশরের বক্সে জটলা তৈরি করে। সেই সুযোগে ডিফেন্ডার খলিলজাদেহ কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দেন। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ইরানের ফুটবলার ও সমর্থকেরা। এমনকি অতিরিক্ত উদযাপনের কারণে খলিলজাদেহকে হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি।

কিন্তু ভিএআর কক্ষে তখন চলছিল গোলটির বৈধতা যাচাই। রিপ্লে বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, আক্রমণের শেষ মুহূর্তে খলিলজাদেহের শরীরের যে অংশ দিয়ে তিনি বৈধভাবে গোল করতে পারেন, সেটির একটি অংশ মিশরের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল। বিশেষ করে তার ডানপায়ের বুটের সামনের অংশটি অফসাইড লাইনের সামনে থাকায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন অনুযায়ী সেটিকে অফসাইড ধরা হয়। তাই দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করে দেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

এই একটি সিদ্ধান্তই বদলে দেয় পুরো ম্যাচের ভাগ্য। গোলটি বহাল থাকলে ইরান ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে যেত। সেক্ষেত্রে তাদের পয়েন্ট হতো পাঁচ, যা নিশ্চিতভাবেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

কিন্তু গোল বাতিল হওয়ায় ইরানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ১-১ সমতায়। তিন ম্যাচেই ড্র করে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৩ পয়েন্ট। ফলে ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে এখন তাদের ভাগ্য ঝুলে আছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর হিসাব মিললেই কেবল জানা যাবে, শেষ ৩২-এ জায়গা হবে কি না।

অবশ্য শুধু বাতিল হওয়া গোলই নয়, ম্যাচজুড়েই ভাগ্য যেন ইরানের বিপক্ষে ছিল। ১১ মিনিটে মেহদি তারেমি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। শেষ দিকে তার একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর যোগ করা সময়ে খলিলজাদেহের গোলটি অফসাইডে বাতিল হওয়ায় হতাশা আরও গভীর হয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। এবারও সেই আক্ষেপ ঘুচানোর দ্বারপ্রান্তে গিয়ে শেষ মুহূর্তে ভিএআরের সিদ্ধান্ত তাদের স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে এল। ইরানের অফসাইড দুঃখই হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানের শেষ পরিণতি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন