আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিসিবির নিরাপত্তায় হঠাৎ ‘নতুন তালা’, কেন?

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিসিবির নিরাপত্তায় হঠাৎ ‘নতুন তালা’, কেন?

ম্যাচ ডে কিংবা কোনো অনুষ্ঠান না থাকলে দর্শকদের মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। তবে সাংবাদিকদের জন্য মাঠের দরজা সব সময়ই খোলা থাকে। কিন্তু গত পরশু সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের জন্য সেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বিসিবি। জানায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ম্যাচ ডেতে স্টেডিয়ামজুড়ে থাকে বাড়তি নিরাপত্তা। অন্যান্য দিনেও স্টেডিয়ামে প্রবেশে থাকে কড়াকড়ি। তবুও হঠাৎ কেন বিসিবিতে নিরাপত্তা ঘাটতি দেখা দিল, সেই প্রশ্ন রহস্য ছড়াচ্ছে।

সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করায় চলছে নানান ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ বিসিবির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ বিসিবিকে দিয়েছেন সাধুবাদ। তবে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাজের জন্য খানিকটা বাধা হয়ে আসছে এটা অস্বীকার করার জো নেই।

বিজ্ঞাপন

তবে এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন এই সিদ্ধান্ত। কেন এবং কীভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাও আমার অজানা।’ তবে তার কথায় খানিকটা বিরক্তির সুর পাওয়া গেছে। কারণ সিদ্ধান্তটা যে এসেছে শীর্ষ পর্যায় থেকে, এককভাবে। অর্থাৎ, বিসিবির বেশির ভাগ পরিচালক এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জানিয়ে দিয়েছি মাঠে প্রবেশের কড়াকড়ির ব্যাপারটা। এর বেশি আমার কিছু জানা নেই এই ব্যাপারে।’

বিসিবির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদ বলেন, ‘ক্রিকেটের বড় স্টেকহোল্ডার সাংবাদিকরা। শত্রুজ্ঞান করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলে হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা। কিন্তু এটা পরিষ্কার করা হয়নি, সাংবাদিকরা কীভাবে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। ক্রিকেটার-ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমর্থকদের মধ্যে ব্রিজ হলো সাংবাদিকরা। আমাদের বঞ্চিত করা মানে এই ব্রিজকে ভেঙে দিতে চাওয়া। কারা এই ব্রিজ ভেঙে দিতে চায়, এটা স্পষ্ট। এই ব্রিজ ভেঙে দিলে দেশের মানুষ ক্রিকেটের প্রতি আরো বেশি অনাগ্রহী হয়ে পড়বে। এটাই হয়তো তাদের চাওয়া।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার কাছে মনে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলিনি, এটার ধারাবাহিকতায় এমনসব সিদ্ধান্ত। বোর্ডের ভেতরে যারা আছে আমার মনে হয় তারা ক্রিকেট ধ্বংস করে দিতে চায়। সে জন্য খুবই ধূর্ততার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে।’

দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা বলে মনে করেন আরেক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ সেকান্দার আলী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক কোনো ঘটনা এর আগে ঘটেনি। আমার কাছে এই সিদ্ধান্তকে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।’

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে সেটা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করছে- এ রকম ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর মানে হলো- কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। নিজের খারাপ কাজগুলোকে লুকানোর চেষ্টা চলছে বলে মনে হয়। তবে তাদের এটা মনে রাখা উচিত সাংবাদিকরা যেকোনো মূল্যেই হোক এই ধরনের তথ্যগুলো বের করে আনবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘মিডিয়ার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা কখনো ভালো না। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো সাফল্য না পাওয়ার পরও ক্রিকেট এত বেশি ফোকাস পাওয়ার কারণ সাংবাদিকরা। বোর্ডে যারা থাকে তারা এটা জানে। ক্রিকেটকে নষ্ট করার যে চেষ্টা চলছে তার একটা অংশ এই সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া।’

সাংবাদিকরা ক্রিকেট ধ্বংসের পাঁয়তারা হিসেবে উল্লেখ করলেও বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান অবশ্য তেমনটা ভাবেন না। তিনি আমার দেশকে বলেন, যেকোনো সময় এটা ঠিকঠাক হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা সংবাদমাধ্যমকে কখনই শত্রু ভাবি না।

তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেননি আমজাদ হোসেন। তাতে খানিকটা স্পষ্ট ওপর মহল থেকেই এসেছে এই সিদ্ধান্ত!

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি এই নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে এই ব্যবস্থা সবার প্রতি (অল পারসনস) সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এই সবার মধ্যে তাহলে ক্রিকেটাররাও থাকছেন! অথচ তারা এতদিন ক্রিকেট খেলেছেন বলেই বিসিবির পরিচালক তথা কর্মকর্তারা সুরম্য এই ভবনে বসতে পারছেন। আলিশান টেবিলের সামনে নরম গদির চেয়ারে গা এলাচ্ছেন। পাঁচ তারকা হোটেলের কফিতে চুমুক দিতে পারছেন!

আজ সেই কমপ্লেক্সেই আরো অনেকের সঙ্গে ক্রিকেটাররাও অনাহুত! নট অ্যালাউড টু ইন্টার!!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন