বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে নারী ফুটবল দল

বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে নারী ফুটবল দল

হামজা-শমিতদের আগমনে দেশের ফুটবল নতুন করে জেগে উঠেছে। এই ফুটবল জাগরণের ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল দেখছেন অনেকে। আবার এটাও বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশকে আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না! জাতীয় পুরুষ ফুটবল নিয়ে যতই মাতামাতি হোক না কেন, তাদের আগে যে বাংলাদেশ নারী দল বিশ্বকাপে খেলবে, সেটি নির্দ্বিধায় বলেই দেওয়া যায়। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ নিশ্চিত করায় তাদের সামনে বিশ্বকাপ আর অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছে।

বাছাই পর্বে আসিয়ান অঞ্চলের শক্তিধর দল মিয়ানমার। ঘরের মাঠে তাদের হারিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলাররা জানান দিচ্ছেন, সাউথ এশিয়ান গণ্ডি পেরিয়ে এখন এশিয়া অঞ্চলে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর পালা তাদের। এশিয়ার মঞ্চে সেরা পারফরম্যান্সটা দেখাতে পারলেই বিশ্বকাপের টিকিট মিলবে অনায়াসে। পাশাপাশি অলিম্পিকে খেলার ইতিহাস গড়ার পথেও এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

আগামী এশিয়া কাপ ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপেরও বাছাই পর্ব। কারণ, এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল ওঠা চারটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চারটি দল দুটি প্লে-ইন ম্যাচে মুখোমুখি হবে। জয়ী দুই দল পেয়ে যাবে বিশ্বকাপের টিকিট। হেরে যাওয়া দুই দলেও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ আছে। তা ছাড়া এশিয়া কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আটটি দল ২০২৮ অলিম্পিক ফুটবলের বাছাইপর্ব খেলারও সুযোগ পাবে।

বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিকে খেলার পথটা কঠিন হলেও খুব বেশি দূরে নয়। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে মেয়েদের। বাংলাদেশ জাতীয় ও বয়সভিত্তিক নারী দলের সাবেক সফল কোচ গোলাম রব্বানীর মতে, বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে আসল পরীক্ষা দিতে হবে এশিয়া কাপে। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘খুবই ভালো যে, আমরা একটা অর্জন পেলাম। আমাদের যে উন্নতির গ্রাফটা এটা প্রতিষ্ঠিত হলো। এখন আসল পরীক্ষা হলো সামনে। ওখানের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। ওখানে গিয়ে অনেকেই বসে আছে। জাপান, কোরিয়া এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে আছে। তাদের বিপক্ষে খেলতে হবে। অতএব, আমাদের ওই প্রস্তুতিটাই নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম যে, আমরা যেহেতু সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এখন আমরা আসিয়ান অঞ্চল বা এশিয়ায় ভালো খেলতে চাই। আমরা যদি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারি, যেমন- মিয়ানমার আসিয়ানে ভালো টিম। মিয়ানমার ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুরসহ আসিয়ান অঞ্চলে অনেক টিমের বিপক্ষে দাপট দেখায়। মিয়ানমারকে যেহেতু আমরা হারালাম, তার মানে আসিয়ানে একটা ভালো অবস্থায় এখন আছি। আমরা যদি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করতে পারি, ফিলিপাইনের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারি, তখন বুঝব যে, আমাদের অবস্থানটা কী। এখন তাদের উন্নয়নের জন্য ফোকাস করা উচিত। আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার।’

বর্তমান নারী দলটি খুবই সম্ভাবনাময়। ছোটন বলেন, ‘এ টিমটি হলো সম্ভাবনাময় টিম। এটি সম্ভাবনাময় একটা সেক্টর। এখনো যদি অশুভ কোনো কিছু না আসে আর এটি যদি ঠিকমতো পরিচালিত হয়, মেয়েরা যদি খেলায় থাকে এবং তাদের জন্য যদি বিনিয়োগ করা যায় তাহলে তারা দেশকে আরো অনেক কিছু দেবে।’

এদিকে, ঋতুপর্ণাদের ইতিহাস গড়া সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক ফুটবলার অংম্রা চিং মারমা। তিনি আমার দেশকে জানান, ‘এই দলটিকে বেশি চাপে রাখা যাবে না। দলটি দুর্দান্ত খেলছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এজন্য মেয়েদের চাপমুক্ত রাখতে হবে।’ অংম্রা চিং মারমার মতে, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েরা জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো লড়াই করবে বলে প্রত্যাশা করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন