বিশ্বকাপ নিয়ে বির্তকে মুখ খুলেছেন নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ফুটবলার রুড গুলিত। ক্রমবর্ধমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
গুলিত বলেন, “আমি অনেক দিন চুপ ছিলাম, কারণ আমি চেয়েছিলাম এই বিশ্বকাপকে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে। কিন্তু প্রস্তুতির যত গভীরে যাচ্ছি, ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে এখানে ফুটবল আর মূল আলোচনার বিষয় নয়। সেই কারণেই আমি মনে করি, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উচিত ফিফা সভাপতির পদে থাকা নিয়ে গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করা।”
তার মতে, বিশ্বকাপ মানুষের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করার কথা। কিন্তু এবারের আসর ধীরে ধীরে বিভাজন, রাজনৈতিক বিরোধ, ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে।
গুলিত বলেন, “আমরা শুনছি ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ টিকিট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবার সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের ঘটনাও সামনে এসেছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে ফিফা তাকে বিশ্বকাপ পরিচালনার দায়িত্ব দিলেও, তিনি নাকি স্বাগতিক দেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এগুলো কোনো ছোটখাটো সমস্যা নয়। বরং বিশ্বকাপ যে মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে, সেগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতেই আঘাত হানছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবলকে সর্বজনীন খেলা হিসেবে প্রচার করতে পারে না ফিফা, যদি যোগ্য সমর্থক, কর্মকর্তা কিংবা অংশগ্রহণকারীরা ফুটবলের বাইরের কারণে নানা বাধার মুখে পড়েন। প্রতিযোগিতার সততা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই ফিফার প্রথম দায়িত্ব।”
গুলিতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, এসব সমস্যা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল, “ফিফাই এই টুর্নামেন্টের আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে, ফিফাই সব ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে এবং বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। যদি সেই আশ্বাস এখন অবিশ্বস্ত প্রমাণিত হয়, তাহলে জবাবদিহি শুরু হওয়া উচিত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই।”
নেতৃত্বের অর্থ কী, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন গুলিত। তিনি বলেন, “নেতৃত্ব মানে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছবি তোলা বা বাণিজ্যিক সাফল্য উদযাপন করা নয়। নেতৃত্ব মানে হলো সমস্যার সময় দায়িত্ব গ্রহণ করা। তাই আমার বিশ্বাস, মি. ইনফান্তিনোর নিজেকেই প্রশ্ন করা উচিত—বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এখনও সঠিক ব্যক্তি কি না।”
বিশ্বকাপ দেখার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুলিত। তার মতে, বাছাইপর্ব থেকে নিজেদের দলকে অনুসরণ করা বহু নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকের পক্ষে এখন আর বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
“ফুটবল ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের খেলা থেকে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনী দর্শকদের একচেটিয়া আয়োজনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ এই খেলাটিকে গড়ে তুলেছে সাধারণ সমর্থকরাই,” বলেন তিনি।
গুলিতের ভাষায়, “বিশ্বকাপ কোনো সরকার, রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী কিংবা ফুটবল প্রশাসকদের সম্পত্তি নয়। এটি খেলোয়াড়, রেফারি এবং সমর্থকদের। ফিফা যদি এই তিন পক্ষের জন্য সমান ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তারা তাদের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”
শেষে তিনি বলেন, “বিশ্ব ফুটবল এখন জবাব, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। যদি বর্তমান প্রশাসনের অধীনে তা সম্ভব না হয়, তাহলে হয়তো ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সময় এসে গেছে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

