নাজমুল হোসেন শান্তর জার্সি হাতে গ্রিন গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন বেশ কয়েকজন সমর্থক। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে সমর্থন দিতে আসা ওই সমর্থকদের লম্বা ভ্রমণ স্বার্থক হয়েছে শান্তর ম্যাচসেরা হওয়া পারফরম্যান্সে। ৪২ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দলকে এনে দেন সাত উইকেটের জয়। শান্তর মতো ব্যাট হাতে দারুণ এক ইনিংস খেলেন ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৫৯ বলে তার ব্যাটে আসে ৮৭ রান।
সিলেটে আগে ব্যাট করতে নেমে চার উইকেটে ১৭৮ রান তোলে রংপুর রাইডার্স। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলীয় ১৩ রানে হারায় প্রথম উইকেট। প্রাথমিক ওই ধাক্কা কাটিয়ে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৪২ রান! আমিরাতের ওপেনার ওয়াসিমের চেয়ে খানিকটা আগ্রাসী ছিলেন শান্ত। ৪২ বলে খেলেন ৭৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। তাতে হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তার ইনিংসে ছিল ছয় চার ও চার ছক্কা। এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ১০১ রানের ইনিংস খেলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে নিশ্চিত করেন দলের জয়। বিপরীত প্রান্তে থাকা ওয়াসিম ৫৯ বলে করেন ৮৭ রান।
শান্তর বিদায়ের পর সাত বলের ব্যবধানে ফেরেন জিমি নিশাম। তার ব্যাটে আসে দুই বলে এক রান। তবে দ্রুত দুই উইকেট হারানো রাজশাহীর জয়ে ফেলেনি কোনো প্রভাব। পাঁচ বল হাতে রেখে সহজে নিশ্চিত করে জয়। এবারের আসরে রংপুরের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জয় পেল দলটি। রংপুরের হয়ে আকিফ জাভেদ ৪৩ রানে নেন দুই উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে তাওহিদ হৃদয়ের ৯৭ এবং শেষদিকে খুশদিল শাহর ২৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে চার উইকেটে ১৭৮ রানে থামে রংপুর রাইডার্সের ইনিংস। এছাড়া আর কোনো ব্যাটার বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। রাজশাহীর হয়ে সন্দ্বীপ লামিচানে ২১ রানে নেন এক উইকেট।
১৭৮ রান করেও ম্যাচ হারের পর রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান হারের দায় দেন ফিল্ডারদের। সংবাদ সম্মেলনে সরাসরিই হারের জন্য ফিল্ডারদের দায় দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় ভালো রান ছিল। কিন্তু আমাদের জন্য বড় চিন্তার কারণ ফিল্ডিং।’ এছাড়া মাঝের ওভারে ভালো ব্যাট করতে না পারাও হারের জন্য দায়ী বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘আমার কাছে মনে হয় মাঝখানে দুটি ওভার যদি ভালো করতে পারতাম, তাহলে রান রেটটা ১০-এর ওপরে যাওয়া পসিবল ছিল। যেটা এই উইকেটে কঠিন হত। আমরা কোনো সময়ই আসলে রান রেটটা ১০-এর ওপরে নিয়ে যেতে পারিনি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স : ১৭৮/৪, ২০ ওভার (হৃদয় ৯৭*, খুশদিল ৪৪*, সন্দ্বীপ ১/২১)।
রাজশাহী : ১৭৯/৩, ১৯.১ ওভার (ওয়াসিম ৮৭*, শান্ত ৭৬, আকিফ ২/৪৩)।
ম্যাচসেরা : নাজমুল হোসেন শান্ত।
ফলাফল : রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সাত উইকেটে জয়ী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

