ক্রিকেটে ওয়াকওভারের ঘটনা নতুন নয়। বৈশ্বিক কিংবা অঞ্চলভিত্তিক কোনো আসর শুরুর আগে নির্দিষ্ট কারণে অনেক দলই সরে দাঁড়িয়েছে। এ তালিকায় সবশেষ নাম সংযুক্তির দোলাচলে দুলছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে যেতে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতেই ফিরে আসছে ওয়াকওভারের ইতিহাস। বাংলাদেশ ওয়াকওভারে যাবে কি নাÑসেটা সময়ের হাতে, আপাতত এর আগে বৈশ্বিক আসরে ঘটে যাওয়া ওয়াকওভারের ঘটনাগুলোর দিকে আলোকপাত করা যাক :
১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আতঙ্ক
১৯৯৬ সালের ৩১ জানুয়ারি, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগের ঘটনা। প্রায় ৪৪০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক বহনকারী একটি ট্রাক শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান গেট ভেঙে ঢুকে পড়ে। লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই) পরিচালিত ওই সন্ত্রাসী হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় যেতে রাজি হয়নি। ফলে গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচেই ওয়াকওভার পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় শ্রীলঙ্কা, যা টুর্নামেন্টে তাদের অনেকটাই এগিয়ে দেয়। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে অর্জুন রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ উভয় দলকেই বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
২০০৩ বিশ্বকাপে রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাবু ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড
ওয়াকওভারের পরের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৩ বিশ্বকাপে। যে বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। সে সময় রবার্ট মুগাবের শাসনামলে জিম্বাবুয়ে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইংল্যান্ড দলকে জিম্বাবুয়ে সফরে না যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি আইসিসির কাছে ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিলেন, যা নাকচ করে দেওয়া হয়। ফলে জিম্বাবুয়ে ওয়াকওভার পায় এবং চার পয়েন্ট অর্জন করে। একই আসরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে নিউজিল্যান্ড দল কেনিয়া সফর নিয়ে শঙ্কায় ছিল। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাদের দলকে কেনিয়ায় না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে জিম্বাবুয়ের সরে দাঁড়ানো
জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারটি অবশ্য আলাদা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০০৯ সালের সে আসরের এক বছর আগেই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে জিম্বাবুয়ে। সেই বিরোধের জেরেই ২০০৯ সালের ২০ ওভারের আসর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় জিম্বাবুইয়ানরা। ওই আসরে তাদের জায়গায় খেলেছিল স্কটল্যান্ড।
২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার ‘না’
২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ২২ দিন আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় দল পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। তখন আয়ারল্যান্ডকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছিল আইসিসি।
২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে করোনায় পিছু হটে নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের মূল দলের পাশাপাশি জুনিয়র দলেরও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর রেকর্ড আছে। করোনার কারণে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড। সে আসরে নিউজিল্যান্ডের জায়গায় খেলেছিল ইউরোপ বাছাই পর্বে প্রথমে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া স্কটল্যান্ড। ১৬তম দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

