ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন উদ্যোগ 'ডি থ্রি' টুর্নামেন্ট

ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন উদ্যোগ 'ডি থ্রি' টুর্নামেন্ট

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন এক কাঠামোর ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই কাঠামোর অধীনে ৩ ফরম্যাটেই হবে টুর্নামেন্ট। ৩ ফরম্যাটের এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টের নাম দেয়া হয়েছে ডমেস্টিক থ্রি অথবা ডি থ্রি ট্রফি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে রোবরার রাতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নতুন এই কাঠামোর ঘোষণা দিল বিসিবি।

বিজ্ঞাপন

টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

ছয়টি দল নিয়ে হবে ডি থ্রি টুর্নামেন্ট। একই দল অংশ নেবে চার দিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। আগের ঘরোয়া কাঠামোয় থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি এখন বাতিল হয়ে যাবে। তবে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের মূল আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ এবং একদিনের ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আগের মতোই থাকবে আলাদা।

বিসিবি সভাপতি জানান, আটটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হয়েছিল ‘ডি থ্রি’ ট্রফিতে দল নিতে। সেখান থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দল দেওয়া হয়েছে -এইস ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ।

এর মধ্যে একমি গ্রুপ, ফরচুন গ্রুপ ও এইস ব্লুস্টারের মালিকানায় আছেন বিসিবির তিন পরিচালক ফাহিম সিনহা, মিজানুর রহমান ও শানিয়ান তানিম। প্রতিষ্ঠানের নামেই দলগুলোর নাম হবে। দল দেওয়া হয়েছে তিন বছরের জন্য।

লটারির মাধ্যমে সিরিয়াল করে ছয়টি দল তাদের আইকন ক্রিকেটারেরও ঘোষণা করেছে। এইস ব্লু স্টার তাদের আইকন হিসেবে বেছে নিয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে, ওয়ালটন গ্রুপের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, একমি গ্রুপের মোসাদ্দেক হোসেন, ফরচুন গ্রুপের তাওহিদ হৃদয় এবং সিটিজেন ব্যাংকের আইকন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

আগামী ২৬ অক্টোবর হবে টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফট। তিন সংস্করণকে ভাবনায় রেখেই ২৩ জনের স্কোয়াড গড়বে প্রতিটি দল। এমনকি কোচ, ফিজিও, ট্রেনার, অ্যানালিস্ট মিলিয়ে সাপোর্ট স্টাফদেরও বাছাই করা হবে ড্রাফটের মাধ্যমে। আগামী মঙ্গলবারই হবে ‘ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট’।

প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে বাছাই করা ক্রিকেটারদের তিন বছরের জন্যই নেওয়া হবে। তবে প্রতি মৌসুমের আগে 'মিনি অকশন' ধরনের কিছু থাকবে এবং দলগুলির নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় ক্রিকেটার বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

টি-টোয়েন্টি দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু আগামী ১৫ ডিসেম্বর। আসর শুরু হবে বরিশালে। চার দিনের ম্যাচের আসরটি হবে জানুয়ারি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের আসর আগামী মে মাসে।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ম্যাচ হবে ৪২টি। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ১৬টি ও চার দিনের ম্যাচের আসরে হবে সাতটি ম্যাচ।

টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটাররা সবাই পাবেন সমান পারিশ্রমিক। কিছুদিন আগে যে আর্থিক কাঠামো ঘোষণা করেছে বিসিবি, সেই অনুযায়ীই ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা- প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে এক লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি, দল পরিচালনা ও অন্যান্য সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো, বাকি খরচ দেবে বিসিবি। তবে টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ, টিকেট বিক্রি থেকে শুরু করে রাজস্ব আয়ের ৫০ ভাগ দলগুলোকে দেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন