মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী-জাফরগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি এখন তাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও গণপরিবহনের যাত্রীরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এছাড়া সড়কের গর্তে চাকা পড়ে প্রায়ই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান উল্টে যাচ্ছে। এতে যাত্রীরা আহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও।
জানা গেছে, উথলী বাজার থেকে জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গর্তের সংখ্যা এত বেশি যে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেক সময় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে তৈরি হয় কাদা। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিবা কর্মকার জানায়, এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে কষ্ট আরো বেড়ে যায়। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন। কলেজছাত্রী হাজেরা আক্তার বলেন, ২০ মিনিটের রাস্তা যেতে দ্বিগুণের বেশি সময় লাগে। বৃষ্টির দিনে তো হাঁটাই যায় না।
স্থানীয় কৃষক আয়নাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাই। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে পারি না।
ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বেড়েছে। অনেক সময় যানবাহন গর্তে আটকে যায় কিংবা বিকল হয়ে পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায়।
অটোরিকশাচালক হামেদ আলী বলেন, মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে এই সড়কে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে গাড়ি চালাই। একটু এদিক-সেদিক হলেই গাড়ি উল্টে যায়।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহাদ বিল্ডার্সের প্রতিনিধি রাজু সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার আমি স্থানীয় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে থেকেই ঠিকাদারকে ফোন দিয়েছিলাম। ঠিকাদার বলেছেন কাজ ধরবেন। এই সময়ের মধ্যে দ্রুত কাজ শুরু না করলে কাজের ব্যাপারে ঠিকা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

