ইসরাইলের আপত্তির মধ্যেই হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিসরের কায়রোতে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর মহাপরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসকে নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তার হামাস নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান করতে হলে হামাসকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে।
ইসরাইলের আপত্তি
ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনায় কয়েক ধাপে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, হামাসের অস্ত্র ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় ও সংরক্ষণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। পরে একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি প্রশাসনের মাধ্যমে গাজা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে পরিকল্পনার কোন ধাপ আগে বাস্তবায়ন হবে—এ নিয়েই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে।
হামাস বলছে, তারা পরিকল্পনাটি মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে এর বাস্তবায়নের আগে ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে হবে এবং গাজায় হামলা বন্ধ করতে হবে। হামাসের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যুতে একটি সমঝোতা ট্রাম্পের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানসহ অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে চাপের মুখে থাকা ট্রাম্প এখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে একটি সাফল্য দেখাতে চাইছেন।
এদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের সমালোচনা করেছে। দেশগুলো বলেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হলে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে।
কুশনারের হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক তাই শুধু একটি কূটনৈতিক বৈঠক নয়; গাজা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধের ক্রম নিয়ে বিরোধ না মিটলে ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনো কঠিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

