বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা টি-টোয়েন্টি হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জয়ে ফিরল ভারত। হারারেতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ডগড়া ১৮ বলের হাফ সেঞ্চুরি এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা।
১২৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ম্যাচটিকে একপেশে করে দেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যেখানে ৮০ বলে ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলেন, সেই হারারের মাঠেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেললেন আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস।
শুরুর ওভারেই জিম্বাবুয়ের দুই লম্বা পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে আক্রমণের লক্ষ্য বানান তিনি। মুজারাবানির প্রথম বাউন্সারে র্যাম্প শট খেলতে গিয়ে সংযোগ করতে না পারলেও পরের বলেই খোলেন রানের খাতা। এরপর এনগারাভার এক ওভারে ছক্কা-চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।
পঞ্চম ওভারে মুজারাবানিকে দুই চার ও একটি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলেই পৌঁছে যান ৪৮ রানে। পরের বলেই পূরণ করেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম অর্ধশতক। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে ভারতের হয়ে অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে ফিফটি করে বনে যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরিয়ান! নেপালের কুশাল মাল্লার ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে ফিফটির রেকর্ড এখন অতীত। শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে ৫০ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা।
এর আগে অবশ্য ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক শর্মা দ্রুত ফিরলেও সূর্যবংশীর ঝড়ে সেই ধাক্কা টেরই পায়নি সফরকারীরা। তিনি যখন আউট হন, তখন ভারতের স্কোর ২ উইকেটে ৬৮—জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৫৮ রান।
এরপর ইনিংস সামলান ঈশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৬ রান। কিশান ২৪ বলে ৩৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। অন্য প্রান্তে আইয়ার ছিলেন শান্ত ও দায়িত্বশীল। মাত্র ১৩.২ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলে ৪০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব। গতি ও সুইংয়ের দারুণ মিশেলে প্রথম স্পেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন এই পেসার। অন্য প্রান্তে প্রিন্স যাদবও সমান কার্যকর ছিলেন। অভিষিক্ত বেন কারানকে ফেরানোর পর ডিওন মায়ার্সকেও সাজঘরে পাঠান মায়াঙ্ক। পাওয়ারপ্লে শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল মাত্র ২৬/৩।
অষ্টম ওভারে ৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। সেই অবস্থায় ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন ওয়েসলি মাধেভেরে। শুরুতে ধীরে খেললেও শেষ দিকে গতি বাড়ান তিনি। রায়ান বার্লের ২৬ রানের ইনিংসের পর তাদিওয়ানাশে মারুমানির সঙ্গে ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মাধেভেরে। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৩৯ রান করে রানআউট হন তিনি। ২০২৪ সালে একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে করা ৪৩ রানের পর এটিই ছিল তার সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস।
ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব ২ উইকেটে ১৮ রান এবং প্রিন্স যাদব ২ উইকেটে ১৯ রান দিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ভারতের সব বোলারই ওভারপ্রতি ৮ রানের নিচে রান দিয়েছেন, যা প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৫ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ে।
ব্যাট হাতে সূর্যবংশীর বিস্ফোরণ আর বল হাতে তরুণ পেসারদের দাপটে ভারতের জয় ছিল পুরোপুরি একতরফা। বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদও পেল তারা। অন্যদিকে, নিজেদের ১৯৯২ বিশ্বকাপের রেট্রো জার্সি পরে মাঠে নামা জিম্বাবুয়েকে সিরিজে ফিরতে হলে বাকি দুই ম্যাচে ভিন্ন কিছু করতেই হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

