মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পরওয়ারের

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পরওয়ারের
মিয়া গোলাম পরওয়ার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার একটি সিন্ডিকেট ও ফ্যাসিস্টের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের একটি মহল এভাবে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ এবং প্রবাসী ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ ক্ষতিগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলটির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পরিবারকে সচ্ছল করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে দেশটিতে অবস্থান করা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। তাদের স্বার্থরক্ষা করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দেশের বাইরে শ্রমশক্তি পাঠানোর মাধ্যম কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেটের আওতায় এনে সরকারের একটি অসাধু চক্র দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এতে করে বায়রার সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও নাগরিকদের স্বার্থবিরোধী সরকারের এমন সব সিদ্ধান্ত আর উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত দুদিন আগে দুদেশের সরকার (মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ) মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত একটি সিন্ডিকেটভিত্তিক শ্রমবাজার ব্যবস্থা তৈরি করেছে। অতীতেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠনের কারণে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এবারও আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা একজন সাধারণ শ্রমিক ও তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বড় বোঝা হবে। এ অবস্থায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থ রক্ষা, কম খরচে বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ ও নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ সরকারকে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, বাংলাদেশে দুই হাজারের অধিক বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এজন্য ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে গঠিত সিন্ডিকেট ভাঙতে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সদস্য এবং ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতারণা বন্ধ, শ্রমিকদের শোষণ, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে কম খরচে নাগরিকরা বিদেশে যেতে পারেন এবং পরিবারের সচ্ছলতা ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ও স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপত্তা বিধান এবং প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করাই বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব-কর্তব্য। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা উদ্বেগজনক। তাই অবিলম্বে সরকারকে জনস্বার্থ পরিপন্থী সব কার্যক্রম থেকে সরে এসে নিরাপদ বৈদেশিক শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন