শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী রানীশিমুল ইউনিয়নের বালিজুরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাঙ্গাজান মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাদা-পানিযুক্ত রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমনকি এখন শুষ্ক মৌসুম থাকা সত্ত্বেও রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।
ফলে এই রাস্তায় চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে এলাকাটিকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বালিজুরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাঙ্গাজান পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। ফলে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও রয়েছে প্রায় হাঁটু সমান কাঁদা। এতে সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ভ্যানচালকসহ এলাকাবাসীর চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক মিনার হোসেন বলেন, ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করে সংসার চালাই। রাস্তাটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু পরিবহনের ফলে অনেক জায়গায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সেখানে হাঁটু পরিমাণ কাদা হয়ে গেছে। এরপরও উপার্জনের জন্য এই রাস্তা দিয়েই গাড়ি নিয়ে যেতে হয়। ফলে প্রায়ই ভ্যানটি নষ্ট হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
ছোট বালিজুরী গ্রামের কৃষক আসমত আলী জানান, কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় আজিরন বেগম জানান, বৃষ্টির সময় রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যাওয়ায় নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
রাঙ্গাজান গ্রামের দোকানি মোতালেব বলেন, দোকানের জন্য বিভিন্ন মালামাল আনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে লাভের পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। মাঝে মাঝে মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টির পানিতে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণ প্রয়োজন।
স্কুলছাত্র সালমান ফারসি জানায়, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলে সড়ক কাদায় ভরে যায়। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, বালিজুরি-রাঙ্গাজান সড়কের সমস্যার কথা উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। বর্তমানে সেই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি কাজও চলমান রয়েছে। ওই কাজ শেষ হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-a35b45-720x405.webp)