ট্রফিতেও কাটেনি ওপেনিংয়ের অস্বস্তি!

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

ট্রফিতেও কাটেনি ওপেনিংয়ের অস্বস্তি!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। প্রত্যেকটি সিরিজই জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার দুঃখ হয়তো থাকতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হলো—এবারের সিরিজে পারফর্ম করেছেন মোটামুটি সবাই। পঞ্চপাণ্ডবের বিদায়ের পর ওই অর্থে বাংলাদেশ ক্রিকেটে কাউকে সিনিয়র তকমা দেওয়া হয়নি। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানরা এখন দেশের ক্রিকেটের সিনিয়র ফিগার!

নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সটা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ১৫৫ রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটার ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাশাপাশি লিটন দাসের ব্যাটে এসেছে এক হাফ সেঞ্চুরিতে ১২৯ রান। এছাড়া তানজিদ তামিম করেছেন ৭৯ রান। এমন দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজের সময়টা কেটেছে দারুণ। ব্যাটারদের এমন ছন্দের মাঝে খানিকটা শঙ্কা জাগিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব ও সাইফ হাসান। ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারেননি সাইফ আর আফিফ সুযোগ পেলেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ওপেনিং নিয়ে খানিকটা অস্বস্তি আছে কোচিং প্যানেলে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের তিন ম্যাচেই ওপেন করেছেন তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। তিন ম্যাচে তারা দুজনে ওপেনিং জুটিতে তুলেছেন যথাক্রমে- ২১, ৮ ও ০। প্রথম ম্যাচে ২১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে তানজিদ ২ রানে ফিরলে। আর সাইফের ব্যাটে আসে ৫৭ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে দুই চার হাঁকিয়ে আউট হন সাইফ। তানজিদ আউট হন ৭৬ রান করে। আর তৃতীয় ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। সাইফ ০ আর তানজিদ তামিম আউট হন ১ রানে। একটি করে ফিফটি পাওয়া দুই ওপেনারের কাছে এখন আছে বাড়তি চাওয়া।

বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান সুযোগ পেয়েছেন তৃতীয় ম্যাচে এসে। প্রথম ম্যাচে ইনজুরির কারণে একাদশের বাইরে ছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে খেলায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে তার উপস্থিতি টের পেতে দেননি সুযোগ পাওয়া অন্য পেসাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে দুই ফাইফারের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশি বোলাররা। যার একটি নিয়েছেন নাহিদ রানা এবং আরেকটি মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে মোস্তাফিজের বদলি খেলা শরিফুল ইসলাম তিন ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ফাইফারের দেখা পাওয়া নাহিদ রানার শিকার ছিল ৮ উইকেট। তিনিই এই সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। এছাড়া মোস্তাফিজ ও শরিফুল নিয়েছেন ৫টি করে উইকেট। দুই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। অর্থাৎ, ৩ ম্যাচে ২১ উইকেট শিকার করেছেন চার পেসার মিলে। পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে আশা দেখাচ্ছে, বোলিং ইউনিট হিসেবে দারুণ ছন্দে আছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

সদ্যসমাপ্ত নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের জন্য একটু চিন্তার কারণ হতে পারে লোয়ার অর্ডার ও ওপেনিং। শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে ছিলেন পাঁচ টপ অর্ডার। মিডল অর্ডারের দায়িত্বও সামলেছেন তারা। এই ধারা থেকে বেরিয়ে দুই ওপেনার কারা হবেন—সেটা নিশ্চিত করা বেশি জরুরি লাল-সবুজের টিম ম্যানেজমেন্টের। এছাড়া লোয়ার অর্ডারে আফিফ পারফর্ম করতে না পারায় তার বিকল্প কে হতে পারেন সেটাই চিন্তার বিষয়। সেই তালিকায় আছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন-শামীম পাটোয়ারীদের মতো ক্রিকেটারদের নাম। তাদের খেলিয়ে এখন থেকে প্রস্তুত করবে সেটাই প্রত্যাশা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। এই দুই সমস্যার সমাধান করলেই আপাতত স্ট্যাবল হবে ওয়ানডে দল। দ্রুততম সময়ে স্কোয়াড স্ট্যাবল করাটাই এখন লক্ষ্য বাংলাদেশ দলের। পাশাপাশি সব মিলিয়ে বলাই যায়—নিউজিল্যান্ড সিরিজটা দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের জন্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...