২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পর সবকিছুই ছিল স্বপ্নের মতো। তবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এর সেই সাফল্যের কয়েক বছর পরই বড় অস্থিরতায় পড়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এখন আর্জেন্টাইন ফুটবল। এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ক্লদিও তাপিয়া। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই সভাপতি বর্তমানে সরাসরি ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে। দ্বন্দ্বের মূল বিষয় দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো। সরকার চায় ক্লাবগুলোকে ব্যক্তিমালিকানায় নিয়ে যেতে; কিন্তু তাপিয়া এর কড়া বিরোধিতা করছেন।
এরই মধ্যে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এমনকি একটি প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে সম্মাননা নিতে গিয়ে দর্শকদের দুয়োর মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে, যা সমর্থকদের অসন্তোষেরই প্রতিফলন। অস্থিরতার পেছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে। ঘরোয়া লিগে ঘন ঘন কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বদলে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলে বিশ্বকাপের আগে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ছে না দল—এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
তবে এই পুরো পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দিতে চাইছেন তারা। সম্প্রতি মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে কষ্টার্জিত ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে সমর্থকদের প্রত্যাশা একটাই—লিওনেল মেসি যেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দলকে আবারও শিরোপা এনে দিতে পারেন। বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

