বিভিন্ন শঙ্কার পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। সব শঙ্কা কাটিয়ে ফেরা ডিপিএলে থাকছে নতুনত্ব। মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়াতে রাখা হবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, সঙ্গে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক রাখতে দুপুরের খাবার দেবে বিসিবি। সব মিলিয়ে শঙ্কা কাটানো ডিপিএলে থাকছে নতুনত্ব। আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকার ছয় মাঠে শুরু হবে ডিপিএলের এবারের আসর।
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের আগের পরিচালনা পর্ষদের অধীন ডিপিএল মাঠে গড়ানো নিয়ে ছিল শঙ্কা। কিন্তু তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দূর করে মাঠে নামাচ্ছে ডিপিএল। মাঠে নামানোটা চ্যালেঞ্জ ছিল বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উন্মোচন করা হয় ডিপিএলের এবারের আসরের ট্রফি। সেখানেই ডিপিএলের নতুনত্বগুলো তুলে ধরেন তিনি।
গত বছর ডিপিএলে মোহামেডানের হয়ে খেলার সময় হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এছাড়া গত এক-দুই বছরে মাঠে ক্রিকেটার-ম্যাচ অফিসিয়ালসদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। সেসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
এ নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমার মনে হয় গত এক-দুই বছরে চার-পাঁচটি ঘটনা ঘটে মাঠে। অনেকেই প্রাণ হারান। আমি খুব সৌভাগ্যবান ছিলাম, বেঁচে গেছি। এটা বিসিবির দায়িত্ব। আমরা যতটুকু করতে পারি, ততটুকু ব্যবস্থা রাখি। আমাদের প্রত্যেক মাঠেই কমবেশি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা চ্যালেঞ্জ, তারপরও চার-পাঁচটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এছাড়া বিসিবির পক্ষ থেকে এবারই প্রথমবারের মতো ক্রিকেটারদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। আগে ক্লাবগুলো ক্রিকেটারদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করত। সেখানে থাকত ভাত ও গরুর মাংস, যা ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঘাটতি তৈরির মূল কারণ।
এবার সে খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিসিবি দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ-সুবিধা দেবে এবং ক্রিকেটারদের জন্য খাবার সরবরাহ করবে। এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি এটা জানি, হঠাৎ করে ওই ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা... (হয়তো সহজ হবে না)। জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব-১৯ বা ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা হয়তো অভ্যস্ত। কিন্তু ঘরোয়া লিগে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য পুরোটা বদলে ফেলা কঠিন। কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না হচ্ছে, এটা আমরা চেষ্টা করব।’
এছাড়া ডিপিএলের ম্যাচ চলাকালে ক্রিকেটার ও টিম অফিসিয়ালসরা ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারতেন, দুর্নীতি দমন আইনে যা অবৈধ। এখন থেকে আর সে সুযোগ পাবেন না তারা। ম্যাচ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো ক্রিকেটার ও টিম অফিসিয়ালসদের নির্ধারিত জায়গায় মোবাইল ফোন জমা দিতে হবে।
এবারের ডিপিএলে একদিনে অনুষ্ঠিত হবে ছয় ম্যাচ। ঢাকার আশপাশের ছয় মাঠে গড়াবে এবারের আসর। মূলত সময়স্বল্পতার কারণে একই দিনে ছয় ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির কথা বিবেচনায় রেখে প্রতি রাউন্ডের জন্য একদিন করে রিজার্ভ ডে রাখা হচ্ছে।
ডিপিএলের এবারের ছয় ভেন্যু হলোÑবিকেএসপি-৩, বিকেএসপি-৪, ক্রিকেটার্স একাডেমি, পিকেএসপি-২, ইউল্যাব মাঠ ও বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্স।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

