বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে আজ

অভিজ্ঞতা বনাম আনকোরার লড়াই

পার্থ রায়

অভিজ্ঞতা বনাম আনকোরার লড়াই

সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড কোচ রব ওয়াল্টার বলেছিলেন, ৫৪ ক্রিকেটার দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় খেলছে। তাতে স্পষ্ট, মূল দল নিয়ে বাংলাদেশে আসেনি কিউইরা। স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞতাতেও অনেকটাই পিছিয়ে অতিথিরা। তাদের পুরো স্কোয়াডে ওয়ানডে অভিজ্ঞতা মোটে ৩৭২ ম্যাচ। যেখানে বাংলাদেশ স্কোয়াডের অভিজ্ঞতা প্রায় দ্বিগুণ, ৭৬১ ম্যাচ! এমন দল নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস ছিল নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথামের কণ্ঠে। অভিজ্ঞদের বিপক্ষে আনকোরারা জিততে পারে কি না- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনের মধ্যে আটজনের ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ এক থেকে তিন ম্যাচের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি ১৬৩ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে অধিনায়ক টম লাথামের। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪ ওয়ানডে খেলেছেন হেনরি নিকোলস। এমনিতেই অভিজ্ঞতা কম, সঙ্গে এশিয়ার মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতাতেও পিছিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন

এই অনভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা বলেছিলেন নিউজিল্যান্ড কোচ রব ওয়াল্টার। একই কথা ছিল অধিনায়ক টম লাথামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমাদের দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছে, যারা আগে বাংলাদেশে খেলেছে। আমরা যতটুকু সম্ভব বেশি ক্রিকেটারের মধ্যে এই অভিজ্ঞতাটা দিতে চাই। এটা অবশ্যই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের গভীরতা বাড়াবে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতার পার্থক্য থাকলেও লক্ষ্য সিরিজ জয় ছাড়া আর কিছুই নয়- সেটা স্পষ্ট করেন টম লাথাম। এ নিয়ে তার ভাষ্য ছিল, ‘দেখুন, এটা অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য। আমরা এখানে এসেছি এবং সিরিজ জিততে চাই। আমার ধারণা, সবারই এটা লক্ষ্য থাকে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা যখন খেলা শুরু করব, চেষ্টা করব নিজেদের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করতে।’

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অভিজ্ঞতায় যোজন যোজন এগিয়ে বাংলাদেশ। স্কোয়াডের ১৫ জনের মধ্যে মাত্র পাঁচ ক্রিকেটারের আছে ১০ কিংবা তারচেয়ে কম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এছাড়া বাংলাদেশ স্কোয়াডে দুই ক্রিকেটারের আছে ১০০-এর বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। আর ৫০ কিংবা তারচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে চারজনের। আর তাতেই স্পষ্ট অভিজ্ঞতায় কতটা এগিয়ে স্বাগতিকরা। সে অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা মিরাজের আশা ফল নিজেদের পক্ষেই আসবে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেকটি ম্যাচে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমাদের পক্ষে রেজাল্ট আনতে।’

এর জন্য সিরিজের শুরুটা, অর্থাৎ প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে চান। তার মতে, প্রথম ম্যাচে জয় পেলে সিরিজ জয়ের পথ আরো সুগম হবে। পাশাপাশি র‍্যাংকিংয়ের কথাও মাথায় রাখতে চান তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগে র‍্যাংকিংয়ের ৯ নম্বরে আছে বাংলাদেশ দল। আপাতত র‍্যাংকিংয়ে উন্নতির কোনো সুযোগ নেই লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের সামনে। ফলে ম্যাচ জিতে রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগটা এখন কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান মেহেদি হাসান মিরাজ। তার কথায়, ‘সামনে যে সিরিজগুলো আছে, সেখানে প্রত্যেক ক্রিকেটারই ব্যক্তিগতভাবে উন্নতির চেষ্টা করছে। প্র্যাকটিসে আমরা ওভাবেই চেষ্টা করছি এবং ম্যাচে যেন আমরা সেভাবে খেলতে পারি, সেভাবেই আমাদের ফিডব্যাক দেওয়া হচ্ছে।’

আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবারও পাকিস্তান সিরিজের মতো স্পোর্টিং উইকেটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৪৬ ওয়ানডে খেলে ৩৪টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাকি ১২ ম্যাচের ১১টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ। অতীত পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে দারুণ কিছু করার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন